সোমবার নিরাপত্তা পরিষদকে পাঠানো এক চিঠিতে গুতেরেস উল্লেখ করেন, গত মার্চ থেকে লেবাননের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে অবনতি হয়েছে। সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশনকে সহায়তার জন্য সেখানে ইউনিফর্মধারী বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা জরুরি। বর্তমানে ইউনিফিলের সদস্যসংখ্যা ৭ হাজার ৫০০ হলেও ভবিষ্যতে তা কমিয়ে ১ হাজার ৯৮০ থেকে ৫ হাজার ৫২৫ জনের মধ্যে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
গুতেরেসের প্রস্তাবিত তিনটি বিকল্প—
প্রথম বিকল্প: এতে ৩৫০ জন নিরস্ত্র সামরিক পর্যবেক্ষক এবং সুরক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ৪টি পদাতিক ব্যাটালিয়ন (প্রতিটিতে ৭৫০ জন) ও ৭০০ জনের রিজার্ভ ফোর্স রাখার কথা বলা হয়েছে। এই বাহিনীটি ‘ব্লু লাইন’ থেকে লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতির ওপর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নজরদারি করতে সক্ষম হবে।
দ্বিতীয় বিকল্প: এই প্রস্তাবে ২৮৫ জন নিরস্ত্র সামরিক পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ২টি পদাতিক ব্যাটালিয়ন (প্রতিটিতে ৭৫০ জন) ও ৪৫০ জনের রিজার্ভ ফোর্স রাখার কথা বলা হয়েছে। এই বাহিনী মূলত লিতানি নদী ও ব্লু লাইনের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থায়ী পর্যবেক্ষণ পোস্ট ও টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি চালাবে।
তৃতীয় বিকল্প: এতে ২১৫ জন নিরস্ত্র সামরিক পর্যবেক্ষকের সাথে সশস্ত্র ৪৫০ জনের ২টি হালকা পদাতিক ব্যাটালিয়ন এবং সুরক্ষার জন্য ৩৫০ জনের কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এই বাহিনী ব্লু লাইন থেকে উত্তরের কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারি করবে। তবে গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, এই বিকল্পে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া পুরো ব্লু লাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হবে না। এমনকি লেবানন ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা কমানোর ক্ষমতাও এই বাহিনীর থাকবে না।
মহাসচিব গুতেরেস আরও জানান, ভবিষ্যতে যেকোনো বাহিনীর জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আকাশপথের সুবিধা, মাইন অপসারণ এবং প্রকৌশল সক্ষমতা থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া রাডার, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও স্যাটেলাইট ইমেজারি ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি ক্ষমতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।





