ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান বিচারপতির ‘সুয়ো মটো’ হস্তক্ষেপ আবেদন

আদ-দ্বীন হাসপাতাল; ইনসেটে আবেদনকারী আইনজীবী
আদ-দ্বীন হাসপাতাল; ইনসেটে আবেদনকারী আইনজীবী | ছবি: এখন টিভি
0

রাজধানীর মগবাজারস্থ আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করে ইমেইল ও ডাকযোগে একটি আবেদন দাখিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম হোসাইনী।

গতকাল (সোমবার, ১ জুন) প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে পাঠানো আবেদনে তিনি ঘটনাটিকে শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার, জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর জনস্বার্থমূলক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নবজাতকদের রাখা কক্ষে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছিলো না এবং কক্ষটি পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী ছিলো না।

এ ধরনের অবকাঠামোগত ত্রুটি ও অবহেলা ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম হোসাইনী তার আবেদনে উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত ‘জীবনের অধিকার’ এবং ২৮(৪) অনুচ্ছেদে শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার যে সাংবিধানিক অঙ্গীকার রয়েছে, এই ঘটনা তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে।

এ আইনজীবী বলেন, ‘নবজাতক শিশুরা সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। যদি অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের মৃত্যু ঘটে থাকে, তবে এর দায় নির্ধারণ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।’

আরও পড়ুন:

এ ধরনের আবেদনের কোনো আইনগত ভিত্তি রয়েছে কি না সেই বিষয়ে তিনি জানান, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে এমন নজির রয়েছে, যেখানে এ ধরনের আবেদন এমনকি শুধু সুপ্রিম কোর্ট বরাবর লেখা চিঠির ওপর ভিত্তি করেও সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক জনস্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আবেদনে প্রধান বিচারপতির নিকট বিষয়টি ‘সুয়ো মটো (Suo Motu)’ উদ্যোগে বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি জনস্বার্থে রিট আবেদন হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের আবেদনও করা হয়েছে।

আবেদনে কয়েকটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে— ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নবজাতক ওয়ার্ড, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (NICU/PICU) এবং পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন।

ঘটনাটি নিয়ে এরই মধ্যে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবী রফিকুল ইসলাম হোসাইনী আশা প্রকাশ করেন যে, এ মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহিতা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ আদালতের কার্যকর পদক্ষেপ দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

এসএইচ