প্রতিদিনের বিমানবাহিনীর প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে ড্রোন হামলার পরিমাণ প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ইউক্রেন সারা দেশে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তুললেও রাশিয়ার ড্রোনগুলো ভূপাতিত করতে পারলেও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তারা এখনো পশ্চিমা মিত্রদের ওপর নির্ভরশীল।
গত মাসে তিন দিনের একটি যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। কিয়েভ ও মস্কো একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দূরপাল্লার হামলা আরও বাড়িয়ে দেয়। রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন ছাড়াও মে মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে ২১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এমন এক সময়ে রাশিয়া এই হামলাগুলো বাড়িয়েছে, যখন ইউক্রেনের হাতে থাকা ‘প্যাট্রিয়ট’ অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেমের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি সহায়তার আরজি জানিয়েছে।
মে মাসে ইউক্রেনের রাজধানীতে গত কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ হামলা চালায় মস্কো। একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গত মাসে মস্কো তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধে ব্যবহার করেছে।
আরও পড়ুন:
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯১ শতাংশই আকাশেই ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানে এটিও স্পষ্ট যে, ড্রোন মোকাবিলায় কিয়েভ দক্ষ হয়ে উঠলেও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের এখনো পশ্চিমাদের দিকে চেয়ে থাকতে হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করে বলছেন যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে।
গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের জন্য এই সহায়তা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থাপনাগুলো রক্ষায় মার্কিন মিত্ররা ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যয় করে ফেলেছে।
ট্রাম্প গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু রাশিয়ার আঞ্চলিক দাবি ও কিয়েভের অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনা এগোয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের দিকে ওয়াশিংটনের মনোযোগ সরে যাওয়ায় ইউক্রেন নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো আরও থমকে গেছে।




