প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঈদে প্রশাসনিক সমন্বয় ও জবাবদিহি বেড়েছে: মাহদী আমিন

মাহদী আমিন
মাহদী আমিন | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও সুস্পষ্ট নির্দেশনার ফলে এবারের ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন স্তরের দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী উদ্যোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় এ কথা জানান তিনি।

আজ (সোমবার, ১ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন দিবস উদযাপনের নামে সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে, জনগণের অর্থ ব্যয় হয়েছে, এমনকি ব্যবসায়ীসহ নানা মহল থেকে আয়োজনের নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বলপূর্বক আদায় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদুল আজহায় দেশের মানুষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছে, তা হলো রাষ্ট্রের আন্তরিক সদিচ্ছা ও জনকল্যাণমূখী প্রশাসনিক তৎপরতা।’

প্রধানমন্ত্রীল এ উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের কার্যক্রমে ১০টি গণমুখী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশিয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহণে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু ছিলো ১ কোটি ২৩ লাখ এবং এভাবেই প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয় কোরবানিতে পশুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা। ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বস্তির সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।’

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এ ঈদুল আজহা উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সর্বমহলে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা ছিলো সর্বোচ্চ, যা নিকট রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। তবু কোথাও কোনো প্রশাসনিক ঘাটতি বা সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হলে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিরসনে সরকার সর্বদা সচেষ্ট।’

ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়, এই কঠিন বাস্তবতা দেশবাসী অনুধাবন করে।’

তিনি জানান, আগামী দিনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা এবং সুশাসনের এ ধারাকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াই হবে বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতির ফলে অনেক দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, যেগুলো দেশ একদম শেষ পর্যায়ে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই বাড়ানো হয়েছে।

এসএইচ