সিলেটের শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেট অঞ্চলের একমাত্র হাম আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠা হাম পরিস্থিতিতে আক্রান্ত রোগীদের প্রধান ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে সিলেট সদর হাসপাতাল নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি। ঈদের সময় যখন চারদিকে উৎসব ও ছুটির আমেজ, তখনও অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন উদ্বিগ্ন স্বজনরা।
এই যেমন সিলেট সদর উপজেলার খাদিম এলাকার সংগীতা পাত্র। ১০ মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন তিনি। ঈদের ছুটিতেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি এবং আন্তরিক সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সংগীতা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
সংগীতা পাত্র ও নিমাই পাত্র জানান, কাশি আসলো খুব বেশি। এর মাঝে হাম হয়েছিলো। এখানে আনায় এখন বুঝা যায় একটু কমছে। কোনো অসুবিধা হয় নি। ডাক্তার এবং নার্স আসছে।
শুধু সংগীতা নন, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রায় ৭০ জন রোগীর স্বজনরাও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, ঈদের তিন দিনে শতাধিক নতুন রোগী ভর্তি হলেও ক্লান্তির ছাপ নেই কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে। ছুটি উপভোগের সুযোগ ত্যাগ করে সংকটময় এই সময়ে স্বল্প জনবল নিয়েও পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।
সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের যারা চিকিৎসক আছেন, নার্স আছেন, তারা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কোন অসুবিধা হওয়ার হচ্ছে না এবং কোনো সংকটও তৈরি হয়নি। আমরা সবাই আসলে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’
সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইতি রানী সিনহা বলেন, ‘মুসলিম যারা ছিল, মুসলিম ধর্মাবলম্বী, তাদেরকে তো বাড়িতে মানে, মানে বাড়িতে চলে গেছে ছুটির কারণে। এজন্য আমরা যারা হিন্দু ছিলাম, খুব স্বল্প পরিমাণে ছিলাম, ২০ জনের মতো, আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন। এগুলোই সারা হসপিটাল আমরা ম্যানেজ করছি।’
সিলেটে রোববার পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে মোট ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬৫ জন রোগী।





