কোন উস্কানি ছাড়াই ৩ দিনের ব্যবধানে পরপর ২ বার ইরানে সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন সেনারা। পেন্টাগন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছিল ওয়াশিংটনের। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাংকারে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
রাতারাতি পুরোদমে সংঘাত বেধে যাওয়ার আশঙ্কায় অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে জ্বালানির বাজার, ধাক্কা লাগে শেয়ার মার্কেটে। যদিও এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউজ সূত্র দাবি করে, শান্তি আলোচনার জন্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য একটি সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। যাকে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বলা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়া চুক্তি হচ্ছে না পাশাপাশি স্মারকটিও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
এরপরেই ফক্স নিউজের পর্দায় হাজির হন ট্রাম্প। মাই ভিউ উইথ লারা ট্রাম্প অনুষ্ঠানে পুত্রবধূকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি দাবি করেন, এখন সমঝোতা টেবিলের সব কার্ড ওয়াশিংটনের হাতে। তবে, চুক্তি না হলে তেহরানের ওপর অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি বুঝে ওঠার চেষ্টা করছি। দেখা যাক কী হয়। আমিও ভালোই দর কষাকষি করতে পারি। তারাও এই ব্যাপারে খুব চালাক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কার্ড আমাদের হাতে, কারণ সামরিকভাবে আমরা তাদের পরাজিত করেছি।
আরও পড়ুন:
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য বলছেন, চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনও অনেক কিছুর নিষ্পত্তি হয়নি। বিশেষ করে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভিন্ন এজেন্ডা আছে ওয়াশিংটনের।
যদিও, পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি- এই চার বিষয় নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত চুক্তির বিষয়ে ভাবছে না ইরান। বিপ্লবী গার্ড কর্পসের বরাতে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকের খসড়াও এখনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত করা হয়নি।
এছাড়াও, সম্ভাব্য চুক্তিতে গ্যারান্টর হিসেবে চীনের হস্তক্ষেপ চায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি। আর ইরান পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান সাফ জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম তৃতীয় একটি দেশে সরাবে না তেহরান।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ৯৮ ডলার থেকে কমে বৃহস্পতিবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে আসে ৯৩.৩৬ ডলারে। পরে তা ৯৪ ডলারে পৌঁছায়।




