সাতক্ষীরা-হবিগঞ্জে উদ্বৃত্ত থাকবে হাজারো পশু, শঙ্কায় খামারিরা

সাতক্ষীরার পশুর হাট
সাতক্ষীরার পশুর হাট | ছবি: এখন টিভি
0

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরা ও হবিগঞ্জে কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি রয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও সাতক্ষীরায় প্রায় ১৮ হাজার এবং হবিগঞ্জে ৫০ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে পশুখাদ্যের চড়া দামের কারণে বিনিয়োগ তুলে আনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

এবার হবিগঞ্জের কোরবানির হাট মাতাবে ‘সম্রাট’, ‘পুষ্পা’সহ ২৫ থেকে ৩০ মণ ওজনের বেশ কয়েকটি বড় ষাঁড়। বিশাল আকৃতির এসব গরুকে ঘিরে এরইমধ্যে ক্রেতাদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

খামারিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘গৃহস্থে যেমন বাড়িতে একটা, দুইটা কইরা পালা হয়, সেভাবেই আমরা পালি। মানে অন্য কোনো মেডিসিন বা ওষুধ ব্যবহার করা হয় না।’

অন্যদিকে, ঈদ ঘনিয়ে আসায় সাতক্ষীরার স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে পশু তুলতে শুরু করেছেন খামারি আর ব্যাপারীরা। বাজারে ছাগলের পাশাপাশি এবার মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

বিক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখান থেকে দুই তিন বছর আগে ৩৫-৪০ হাজার টাকা মণ কিনছিল। এবার মনে করেন ২৭, ২৬, ২৮ এরকম মানুষ কিনছে ইনশাআল্লাহ। কোরবানির উপযুক্ত গরু আল্লাহর রহমতে পাওয়া যাচ্ছে, দামের ভেতরে ইনশাআল্লাহ।’

আরও পড়ুন:

ক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘গরুর চাহিদাও অফুরন্ত চাহিদা। পশুর দামটা একটু কমতো, তাইলে একটু মানুষ একটু গরু কিনতে পারতো। এবার পশুর দাম বেশি।’

হবিগঞ্জে পশুর হাট ছাড়াও অনেকে সরাসরি খামার থেকে পশু কিনছেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই শুনি যে খামারি ভাইয়েরা একটু আশঙ্কায় থাকে যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, মায়ানমার থেকে হয়তো আমাদের দেশে কিছু কোরবানি উপলক্ষে কিছু গরু আসে। চুনারুঘাটে একটা অস্থায়ী হাট বসতো, সীমান্ত হাট নামে পরিচিত। কিন্তু এবছর আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম যে এই হাটটা বসবে না। এই জন্য আমাদের এই, ওই, এই কোরবানি উপলক্ষে সম্ভবত ভারত থেকে গরু আসার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা যাতে না আসে বিজিবি অধিনায়ক, ওনাকে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।’

চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হলেও বাজার নিয়ে শঙ্কা কাটছে না খামারিদের। তাই স্থানীয় পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর দাবি তাদের।

আরও পড়ুন:

খামারিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যদি ইন্ডিয়া থেকে গরু না আসে, তাহলে এই বাঙালির, বাংলাদেশের যত খামারি আছে সবাই আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটি দামটা পাইবো, ন্যায্য দামটা পাইবো।’

অন্য একজন বলেন, ‘বর্তমান খাবারের যে দাম, ওই দাম অনুযায়ী এখন কিন্তু আসলে ওইরকম লাভ থাকে না।’

এদিকে সাতক্ষীরায় হাটে আসা ক্রেতাদের স্বাস্থ্যসম্মত ও রোগমুক্ত পশু কেনা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। পশুর হাটে নিয়োজিত রয়েছে তাদের বিশেষ মেডিকেল টিম। ক্রেতারা চাইলেই বিনামূল্যে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, ‘আমার এখানে হাটের ১৬টি হাট রয়েছে, ১৬টি হাটে ১৬টি টিম কাজ করবে এবং সেই টিম প্রস্তুত রয়েছে। তারা এর মধ্যে কাজও শুরু করেছে।’

খামারিদের প্রত্যাশা, শেষ মুহূর্তের বাজারে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঠেকানো গেলে হাসিমুখেই বাড়ি ফিরতে পারবেন তারা।

এসএস