আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি বিমান হামলায় পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, নিকটবর্তী সড়কে থাকা অন্তত ১ জন বেসামরিক নাগরিকও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। গাজা পুলিশ সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর গাজার আত-তুয়াম এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরাইলি বাহিনী।
আল জাজিরার সংবাদদাতা হানি মাহমুদ বলেন, ‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে এবং পরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজাজুড়ে পুলিশ, স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর যে ধারা বজায় রেখেছে, এটি তারই অংশ।’
আরও পড়ুন:
পুলিশ ফাঁড়িতে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন গাজার ১০ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনার অগ্রগতিসংক্রান্ত আলোচনায় এই পুলিশ বাহিনীর বিষয়টি অন্যতম প্রধান জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় নির্বিচার যুদ্ধ শুরু করে ইসরাইল। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও ইসরাইলি বাহিনী গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে কঠোর নিরাপত্তা অবরোধ বজায় রেখেছে। গাজায় ইসরাইলের এই হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৭৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই নিহত হয়েছেন ৮৮৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজা জুড়ে বিভিন্ন হামলায় নিহত ৮ ফিলিস্তিনির মরদেহ এবং ২৯ জন আহত মানুষকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।





