জার্মান চ্যান্সেলরের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সহযোগী সদস্য হিসেবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা ইইউর শীর্ষ সম্মেলন ও মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন, তবে তাদের কোনো ভোট দেয়ার অধিকার থাকবে না। এছাড়া তিনি প্রস্তাব করেছেন, ইইউর সদস্য দেশগুলো যেন ইউক্রেনের জন্য একটি ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ করে, যা দেশটিকে উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যদি তার হারানো সব ভূখণ্ড ফেরত না পায় কিংবা ন্যাটোর সদস্যপদ না পায়, তবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্য দেশবাসীর কাছে যেকোনো শান্তি চুক্তি গ্রহণযোগ্য করতে ইইউর এই সদস্যপদ বা স্পষ্ট পথরেখা অত্যন্ত জরুরি।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইউক্রেনের পক্ষে ইইউর পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়া অবাস্তব। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচিত একটি শান্তি পরিকল্পনায় ২০২৭ সালের মধ্যে সদস্যপদ পাওয়ার একটি সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মের্ৎসের প্রস্তাবটি বর্তমানের ‘প্রার্থী দেশ’ মর্যাদা এবং ‘পূর্ণ সদস্যপদ’—এই দুইয়ের মাঝামাঝি একটি পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মের্ৎস লিখেছেন, ‘আমার এই প্রস্তাব যুদ্ধের মধ্যে থাকা ইউক্রেনের বিশেষ পরিস্থিতির প্রতিফলন। এটি একটি আলোচনার মাধ্যমে শান্তি সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।’
ইইউর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ‘সহযোগী সদস্য’ নামে কোনো বিভাগ নেই। মের্ৎস তার চিঠিতে ইউক্রেনের জন্য এই বিশেষ বিভাগে কিছু সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় কমিশনে একজন সহযোগী কমিশনার এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোট দেয়ার অধিকারহীন প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, যদি ইউক্রেন আইনের শাসন বা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে এই সদস্যপদ বাতিলের ব্যবস্থাও থাকবে। মের্ৎস জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই এই প্রস্তাব নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং বিস্তারিত কাজ করার জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানাবেন।





