ইরানে পুনরায় হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের পর্যালোচনায় তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবারই ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। তবে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আপাতত সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন।
যদিও ট্রাম্প ও তার যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ বারবার দাবি করছেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী পঙ্গু হয়ে পড়েছে এবং তাদের কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যুদ্ধবিরতির ঠিক কয়েক দিন আগে ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল, যা ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের চাপে ফেলে দেয়। এ ছাড়া গত মার্চে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইরান অন্তত ১৬টি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, রাশিয়া তাদের কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ও গোয়েন্দা জ্ঞান ব্যবহার করে ইরানকে মার্কিন বিমানের গতিপথ বুঝতে সাহায্য করেছে। এর ফলে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো কৌশলগতভাবে মোতায়েন করার সুযোগ পাচ্ছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষায় বর্তমানে নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি রুশ ও চীনা ব্যবস্থার এক শক্তিশালী মিশ্রণ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের যুদ্ধের পর চীন ইরানকে বেশ কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সরবরাহ করেছিল।
ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তি ‘নিশ্চিহ্ন’ হওয়ার দাবি করলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ফাঁস হওয়া তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের সচল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও মজুত এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ অক্ষত রয়েছে। মাটির গভীরে গুহায় অবস্থিত যে ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান সেখান থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলেছে এবং দেখা গেছে সেখানের অস্ত্রশস্ত্র এখনো ব্যবহারের উপযোগী।





