ন্যাটোকে দেয়া সামরিক প্রতিশ্রুতি কমাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন; ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন লাইভেক্স ইমিডিয়েট রেসপন্স ২০২৫ সামরিক অনুশীলনে ন্যাটো বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন লাইভেক্স ইমিডিয়েট রেসপন্স ২০২৫ সামরিক অনুশীলনে ন্যাটো বাহিনী | ছবি: রয়টার্স
0

বড় ধরনের কোনো সংকটে ন্যাটো মিত্রদের সহায়তার জন্য সংরক্ষিত মার্কিন সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি সপ্তাহেই ন্যাটো জোটের শরিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নেয়ার জোরালো বার্তা দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘ন্যাটো ফোর্স মডেল’ নামক কাঠামোর আওতায় জোটের সদস্য দেশগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম জরুরি অবস্থার জন্য বরাদ্দ রাখে, যাতে কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়। এই যুদ্ধকালীন বাহিনীর বিস্তারিত তথ্য অত্যন্ত গোপনীয় হলেও পেন্টাগন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এই প্রতিশ্রুতি থেকে নিজেদের বড় আকারে সরিয়ে নেবে। ট্রাম্প বরাবরই বলে আসছেন যে, ইউরোপের নিরাপত্তার প্রাথমিক দায়িত্ব ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিতে হবে। শুক্রবার ব্রাসেলসে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক প্রধানদের বৈঠকে পেন্টাগন তাদের এই নতুন ইচ্ছার কথা জানাতে পারে।

পেন্টাগনের নীতিনির্ধারক এলব্রিজ কোলবি এর আগে জনসমক্ষে বলেছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো প্রচলিত সামরিক শক্তির দায়িত্ব নিলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরমাণু অস্ত্রের সুরক্ষা বজায় রাখবে। তবে কোলবির দল আগামী জুলাই মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগেই ‘ন্যাটো ফোর্স মডেল’ সংস্কার করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পেন্টাগন ও ন্যাটো এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থানে ন্যাটো জোটের ভেতরে নজিরবিহীন টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। অনেক ইউরোপীয় দেশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জোট থেকে পুরোপুরিই বেরিয়ে যেতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপ থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা কমানোর পরিকল্পনা করেছে এবং পোল্যান্ডে একটি সেনাদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে আসছেন যে, তারা নিজেদের সামরিক খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় না করে মার্কিন শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিরোধ আটলান্টিক ওপারের এই মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর দাবি, তারা দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, কিন্তু রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এএম