জরাজীর্ণ ভবনে চলছে নোয়াখালীর সরকারি নার্সিং কলেজের পাঠদান, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

নোয়াখালীর সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াফারি কলেজ
নোয়াখালীর সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াফারি কলেজ | ছবি: এখন টিভি
0

জরাজীর্ণ আর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছেন নোয়াখালীর সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এটি যেন কেবল নামেই নার্সিং কলেজ, যার নেই কোনো নিরাপদ ভবন, নেই পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ভবন, বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। গণপূর্ত বিভাগের ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, হতে পারে প্রাণহানি।

নোয়াখালীর একমাত্র সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ এটি। বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায় ভবনটির নাজুক অবস্থা। ভেতরে দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা। ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছেন বলে জানান ছাত্র-ছাত্রীরা।

২০২৫ সালে কলেজটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন’ ঘোষণা করে গণপূর্ত বিভাগ। এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক সময় বন্ধ রাখতে হয় পাঠদান কার্যক্রম।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘কয়েকদিন পর পর ভেঙে পড়ে। ভূমিকম্প হলে আদৌ আমরা বেঁচে দোতলা থেকে নিচতলায় যেতে পারবো কিনা আমরা এটা জানি না।’

আরও পড়ুন

একজন শিক্ষক বলেন, ‘প্রথম আমাদের এখানে পানি উঠা শুরু করে, পানি উঠার পরে আমাদের যত নথিপত্র আছে সবকিছু ভিজে যায় এবং যে ওয়ালগুলা আছে, সব ওয়ালগুলা ড্যাম ধরে যায়।’

মেয়েদের জন্য ১০০ সিটের আবাসিক ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে গাদাগাদি করে থাকছেন প্রায় ২৫০ জন। অন্যদিকে ছেলেদের জন্য নেই কোনো আবাসন সুবিধা। ধারণার চেয়ে বেশি ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে পড়াশোনা করছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার এ বিষয়ে জানালে হলেও প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। আর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে নতুন প্রকল্প প্রস্তুতের আশ্বাস গণপূর্ত বিভাগের।

নোয়াখালী নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ লায়লা জাহান বলেন, ‘ডিজিএনএম-এর ডিজি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। এখন এটা যত দ্রুত এ বিষয়টি অনুমোদন দেয়, যাতে আমরা আমাদের এ নতুন ভবনটি পাই।’

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব বলেন, ‘এখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ না করলে আসলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। তবে যতটা সম্ভব এদেরকে অন্যত্র সরায়ে নেয়াই বাস্তব বাস্তবসম্মত হবে এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি কমে আসবে।’

ভবনটি ভেঙে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, আবাসন সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি সংশ্লিষ্টদের।

জেআর