শুক্রবার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমরা এমন অনেক সমস্যার সমাধান করেছি যা অন্য কেউ পারত না।’ যদিও এসব সমাধানের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি। বৈশ্বিক উত্তেজনার এই সময়ে দুই নেতার উষ্ণ সম্পর্ক এবং নিয়মিত যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের পুরোটা জুড়েই ছায়া ফেলেছিল ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ। বেইজিং ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় ট্রাম্প আশা করেছিলেন শি জিনপিং তেহরানকে যুদ্ধ থামাতে চাপ দেবেন। তবে চীন বরাবরের মতোই সরাসরি কোনো পক্ষের ওপর চাপ না দিয়ে শান্তি আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। শি জিনপিং তেহরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মার্কিন দাবি মানতে ইরানকে চাপ দেয়ার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখাননি।
সাদাঘরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং ইরান যেন কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—সে বিষয়ে একমত হয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আদায়েরও বিরোধিতা করেছেন শি জিনপিং। গুঞ্জন রয়েছে, ইরান থেকে তেল আমদানির নির্ভরতা কমাতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বেশি জ্বালানি পণ্য কেনার একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।
তাইওয়ান ইস্যুতে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্ক করেছেন। তিনি এই ইস্যুকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি সঠিকভাবে সামলানো না হলে বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. তৌহিদ হোসেনের সমপর্যায়ের কর্মকর্তা মার্কো রুবিও জানান, তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ট্রাম্প দাবি করেছেন চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং প্রতিবছর কয়েকশ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য কিনবে। তবে চীনের পক্ষ থেকে এসব চুক্তির আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।
সফরের শুরু থেকেই ট্রাম্পকে আতিথেয়তায় মুগ্ধ করে বেইজিং। বুধবার ট্রাম্পের জন্য বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা এবং শুক্রবার ঝংনানহাই কমপ্লেক্সের বাগান ঘুরে দেখান শি জিনপিং। ট্রাম্প এই অভ্যর্থনাকে দেশের প্রতি চীনের ‘সম্মান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি কোনো বাজে বকবক করেন না, তিনি শুধুই কাজ বোঝেন; যা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।’





