প্রাচীন শহর বরিশাল ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হবার পর শহরে বড় বড় দালান-কোঠা গড়ে উঠতে শুরু করে। ভবনের নকশা অনুমোদন দেয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক গত ৩ বছরের আটকে থাকা ২০০ নকশার অনুমোদন দেন। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবার আশা করছেন নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা।
সিমেন্ট ও লৌহজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরা বলেন, ‘দুই থেকে ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রিসেন্টলি বরিশালে হবে এবং যেসব নির্মাণ শ্রমিক একেবারে খুব পথে বসেছিলো। যেসব ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিবর্তন করেছিল বা পরিবর্তন করার মনস্থ করেছিল। তারা হয়তো আপাতত রক্ষা পাবে।’
সাবেক দুই মেয়র এবং গণ-অভ্যুত্থানের পরের দুই প্রশাসকের আমলে যারা ভবনের নকশা জমা দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই অনুমোদন পাননি। জমে থাকা এই নকশাগুলো ২ থেকে ৩ বছরের পুরোনো। এতে ভোগান্তিতে ছিলেন আবেদনকারীরা। নকশা অনুমোদনে এত সময় নেয়া উচিত নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন
বরিশাল সুজনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসক আইসা যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে প্ল্যানগুলি দিচ্ছে এবং সব কিছু যাচাই-বাছাই করে, তাতে বোঝা যায় যে একটি প্ল্যান সকল ডকুমেন্টগুলি যদি যথাযথ থাকে, তাহলে সর্বোচ্চ এক মাস বা দেড় বা দুই মাসের বেশি কোনোভাবেই যাওয়া উচিত না এবং এভাবেই এটি সম্ভব।’
ভবন নির্মাণের নকশার জন্য যারা আবেদন করেন- তাদের চাহিদা থাকে নিজেদের মত। কিন্তু সরকারি বিধির সঙ্গে না মেলায় কখনো কখনো দেরি হয় বলে মনে করেন বিসিসির এ কর্মকর্তা।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের আর্কিটেক্ট সাইদুর রহমান বলেন, ‘গ্রাহক যেটা চাহিদা করছেন, সেটা হয়তো বিধিমালা বহির্ভূত চাহিদা। যেই কারণে আমরা আসলে ফুলফিল করতে পারিনি বা পারি না। দুই-তিন বছর হয়ে গেলেও আসলে আমরা ওই জায়গাটায় গ্যাপ থেকে যাচ্ছে এবং গ্রাহকও আসলে এ বিষয়টাতে অনেক কম জানে।’
বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেয়ার পর বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় আটকে থাকা ২০০ ভবনের নকশা অনুমোদন দেন তিনি। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এবং দ্রুততার সঙ্গে নকশা অনুমোদনে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘সমস্ত সমস্যার সমাধান করেছি। আমরা আমরা প্ল্যানের নিয়েও আলাদা করে সফটওয়্যার তৈরি করেছি এবং আমরা এটাকে ডিজিটালের মাধ্যমে আমরা যেন প্ল্যান যদি জমা দেয়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১৫ থেকে ২০ দিন, এর ভিতরে আমরা একটা প্ল্যান দিতে পারবো।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনে এখনও প্রায় ৪০০ নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে বহুতল ভবনের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতক।




