বিশ্বস্ত সহযোগী থেকে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

শুভেন্দু অধিকারী
শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: এনডিটিভি
0

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পট পরিবর্তন ঘটেছে। যিনি এত দিন ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সেই শুভেন্দু অধিকারীই এখন তার উত্তরসূরি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসলেন। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হয়ে তিনিআজ (শনিবার, ৯ মে) শপথ নিলেন। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এল বিজেপি। এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান হলো।

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসে। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন, যখন দলটি বাম-বিরোধী শক্তি হিসেবে সংগঠিত হচ্ছিল। ১৯৭০ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়া শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী ছিলেন একজন অভিজ্ঞ সাংসদ। পরিবারের বিস্তৃত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ছিল পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোয়।

২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলনই তাকে প্রথম বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। ওই আন্দোলন সংগঠিত করতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন শুভেন্দু। সেই আন্দোলন তৎকালীন বাম সরকারকে দুর্বল করে দেয় এবং ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করে।

বছরের পর বছর মমতার অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও ২০১৬ সালে একটি স্টিং অপারেশনে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। পরে তার সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে পরাজিত করেন। সেবার বিজেপি নির্বাচনে হারলেও দলের ভেতরে তার কদর বেড়ে যায়।

এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু মমতার দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরেও তাকে পরাজিত করেছেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও নিজের আসন ধরে রেখেছেন।

তবে শুভেন্দুর এই উত্থান বিতর্কমুক্ত নয়। ২০২১ সালে প্রতিপক্ষকে 'বেগম' বলে সম্বোধন এবং তাকে ভোট দেয়া মানে 'মিনি পাকিস্তান'-এর পক্ষে ভোট দেয়া—এই মন্তব্যের জন্য নির্বাচন কমিশন তাকে নোটিশ দিয়েছিল। গত বছর ক্ষমতায় এলে 'মুসলিম বিধায়কদের বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হবে' বলে দেয়া বক্তব্যে বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি; তাকে বিধানসভা থেকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়।

শপথের ঠিক আগে, গত বুধবার শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তিগত সহকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। বিজেপি এটিকে পরিকল্পিত হামলা বলছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বেকারত্ব, বিনিয়োগ টানতে ব্যর্থতা এবং তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ—এই বাস্তবতায় রাজ্য পরিচালনা করতে হবে তাকে। একজন আগ্রাসী প্রচারক থেকে দক্ষ প্রশাসকের ভূমিকায় নিজেকে প্রমাণ করাই এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

এএম