অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে নাসিরনগরের মেদীর হাওরে অন্তত ৩০৫ হেক্টর বোরে ধানের জমি তলিয়ে গেছে। হাওরে এখনও বিলকিস বেগমের ১০ কানি জমির ধান তলিয়ে আছে। শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটতে পারছেন না। সবমিলিয়ে দুই হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে নাসিরনগর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে হাওর এলাকায়।
গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে মেদীর হাওরে ৩০৫ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়। প্রথম দিকে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ মজুরি দিয়ে ধান কাটা গেলেও হাওরে পানি বাড়ার কারণে গত দুই দিন ধরে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বিলকিস বেগম বলেন, ‘নিজের এবং অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ২২ কানি জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। চাষের সব খরচ মিটিয়েছি আত্মীয়-স্বজন এবং সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে। কিছু ধান বৃষ্টির আগে কেটে নিলেও বাকি ধানগুলো পাকতে দেরি হওয়ায় পরে কাটতে হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘এখনও ১০ কানি জমির ধান পানির নিচে। ১ হাজার ২০০ টাকা দৈনিক মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না, জমিতে গলাপানি। ধান কাটারও পরিবেশ নেই। অথচ ধান বিক্রি করে কতকিছু করবো বলে ঠিক করে রাখছিলাম! সব শেষ হয়ে গেলো আমার।’
বিলকিস বেগমের মতো প্রায় ২ হাজার কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল এখন পানিতে নিমজ্জিত। বৃষ্টিপাতের আগে কাটা ধানগুলোও রোদে শুকাতে না পেরে পচে নষ্ট হওয়ার পথে।
মেদীর হাওরের কৃষক আবুল কাশেম জানান, জমির ধান বেচেই তার পাঁচ সদস্যের পরিবার চলে। তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচও এখান থেকেই আসে। কিন্তু ঢলের পানিতে তার চাষ করা ৫ কানি জমির সব ধান তলিয়ে গেছে।
এখন এই ধান কাটলেও মান ভালো হবে না এবং বাজারে ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে৷ তবে নতুন করে আর কোনো জমি প্লাবিত হয়নি। বৃষ্টিপাত শুরুর আগেই ৬০ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়ে গিয়েছিল। তাই ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।





