রাজনীতিতে অভিষেক করেই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে বাজিমাত করেন তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। তবে ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কোটা পূরণ করতে না পারায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থালাপতির শপথগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরে ১১২ বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার সঙ্গে দেখা করেন টিভিকে প্রধান।
২৪ ঘণ্টা না যেতেই বৃহস্পতিবার সকালে থালাপতিকে তলব করেন রাজ্যপাল। জানতে চান, রাতারাতি আরও ৬ বিধায়ক বা জোটসঙ্গী'র সমর্থন জোগাড় করতে পেরেছে কিনা টিভিকে। এছাড়া বিধানসভায় ১১৮ বিধায়কের সংখ্যাগরিষ্ঠতা'র বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ১১২ বিধায়ক নিয়ে কীভাবে প্রশাসন চালাবেন এবং অন্য কোন দলগুলো টিভিকে সমর্থন করতে রাজি হতে পারে সেই প্রশ্নও ছুঁড়ে দেন রাজ্যপাল। এ অবস্থায় আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানান থালাপতি বিজয়। আস্থা ভোট করা সম্ভব না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগও খোলা রেখেছে টিভিকে।
বিধানসভা নির্বাচনে পুরনো সব দলকে পেছনে ফেলে থালাপতির দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে। এরমধ্যে দুই আসন থেকে নির্বাচন করায় একটি আসন ছেড়ে দিতে হয় তামিল সুপারস্টার থেকে রাজনৈতিক বনে যাওয়া থালাপতিকে। এতে টিভিকের নিজ দলের আসন দাঁড়ায় ১০৭ এ। আর সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোনোভাবেই রাখা যাবে না শর্ত দিয়ে ৫ আসনে জয় পাওয়া কংগ্রেস জোট গঠনের প্রস্তাব দেয়। সে অনুযায়ী টিভিকের ১১৮ বিধায়কের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে প্রয়োজন আরও ৬ বিধায়কের সমর্থন।
আরও পড়ুন:
রাজ্যপাল ইতোমধ্যে তামিলনাড়ু বিধানসভা ভেঙে দিলেও; এমন জটিলতায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থালাপতির সরকার গঠন ও শপথগ্রহণ পিছিয়ে গেলো। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে বিজয়ের দলের আরও এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে। তবে কংগ্রেস ছাড়া আর কারা বিজয়ের দলের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী; সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট নয়।
এমন পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নজিরবিহীন জটিলতা ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। কারণ রাজ্যটির ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ইতোমধ্যে বিজয়ের টিভিকে ১১২ বিধানসভার সমর্থন পাওয়ায়; বাকি আছেন ১২২ বিধায়ক। এরমধ্যে ডিএমকে ৫৯টি এবং বিজেপি সমর্থিত এআইএডিএমকের হাতে ৪৭টি আসন। যারা কংগ্রেস-সমর্থিত বিজয়ের সরকার গঠনের ঘোর বিরোধী হয়ে উঠেছেন। এ অবস্থায় অন্য ছোট দলগুলোকে নিয়ে নিজেরা জোট গঠনে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে ।
এক্ষেত্রেও রয়েছে জটিলতা। কারণ ডিএমকে ও এআইএডিএমকে জোট বাঁধলেও দুই দলের মোট বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৬ জন। তাঁদের জন্যও ১১৮ বিধায়কের সমর্থন পূরণ করা চ্যালেঞ্জ। তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দরকষাকষিতে চাহিদা বাড়ছে সিপিএম এর বিধায়ক, সিপিআই এর ২ বিধায়ক, আইইউএমএল-এর ২ বিধায়ক, ভিসিকের এক এবং ডিএমডিকে'র এক বিধায়ক থাকা ছোট দলগুলোর।





