বিশ্বকাপে ‘ব্যাটেল অব নুরেমবার্গ’— শৈল্পিক নয়, পেশি শক্তির লড়াই

ব্যাটেল অব নুরেমবার্গ
ব্যাটেল অব নুরেমবার্গ | ছবি: সংগৃহীত
0

আধুনিক যুগে এসেও বিশ্বকাপের একটি ম্যাচকে শৈল্পিক নয় বরং কদর্যের সবশেষ পর্যায়ের বলে ব্যাখ্যা করেছে ফুটবল বিশ্ব। যে ম্যাচের সাক্ষী ছিলেন বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইতিহাসে ম্যাচটিকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে ব্যাটেল অব নুরেমবার্গ নামে। ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের কদর্যতম সেই ম্যাচ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে আজকের প্রতিবেদনে।

বিশ্বকাপে দলগুলোর কাছ থেকে সুন্দর ও উপভোগ্য ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে থাকে পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। তবে ২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানির নুরেমবার্গের ফ্রাঙ্কেন স্টেডিয়ামে যা ঘটেছিলো তাকে সুন্দর নয় বরং ফুটবলের সবচেয়ে কদর্যরূপ বলে আখ্যায়িত করেছে ফুটবল বিশ্ব। ফুটবলের নান্দনিকতা যেন সেদিন এক নিমিষেই গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিলো।

বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি ছিলো শেষ আটে ওঠার লড়াই। গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচে তিনটি জয় নিয়ে আসা পর্তুগালই ছিলো ফেবারিট। যদিও নেদারল্যান্ডসও কোনো ম্যাচ হারেনি গ্রুপপর্বে।

খেলা শুরুর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উভয় দলের ফুটবলাররা যেন ফুটবল নয় বিপক্ষ দলের সদস্যকে কাবু করতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পরেন। ম্যাচটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাশিয়ান রেফারি ভ্যালেন্তিন আইভানোভের কাজই ছিলো ফুটবলারদের কার্ড দেখানো।

আরও পড়ুন:

ম্যাচটিতে আইভানোভকে দেখাতে হয়েছে ১৬টি হলুদ কার্ড ও চারটি লাল কার্ড। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনও সর্বোচ্চ।

এমন ম্যাচের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিলো ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও। ম্যাচের শেষ দিকে রেফারি আইভানোভ নাকি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেছেন। যা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উভয়পক্ষের কোচরাও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ছিলেন ব্যস্ত।

যদিও এই দায় এড়াতে পারেননি ভ্যালেন্তিন আইভানোভ। ম্যাচ শেষে এমন ম্যাচের জন্য দায়ী করা হয়েছিলো এই রুশ রেফারিকে। তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটারও তাকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। জানিয়েছিলেন, ‘আইভানোভের নিজেরও একটি হলুদ কার্ড পাওয়া উচিৎ ছিলো।’

আইভানোভের দেখানো সেই ১৬ হলুদ কার্ডের রেকর্ডটি ভেঙে গেছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচে মাতিউ লাহোজ ১৮টি হলুদ কার্ড দেখালে পেছনে পরে ব্যাটল অব নুরেবার্গের রেকর্ডটি। তবে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে চার লাল কার্ডের রেকর্ডটি এখনও দখলে রেখেছেন আইভানোভ।

এসএস