তামিলনাড়ুতে বিজয়ের ‘হুইসেল রেভল্যুশন’, চমক দেখাচ্ছে টিভিকে

মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর কারুর জেলায়।
মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর কারুর জেলায়। | ছবি: সংগৃহীত
1

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই বড় চমক দেখাচ্ছেন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপারস্টার থালাপতি বিজয় (জোসেফ বিজয়)। তার নবগঠিত দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) দুই আঞ্চলিক পরাশক্তি ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-কে পেছনে ফেলে অভাবনীয় সাফল্যের পথে রয়েছে।

আজ (সোমবার, ৪ মে) ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের ভোট গণনা চলছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, বিজয়ের দল ১০৪টি আসনে এগিয়ে আছে। বিপরীতে প্রধান বিরোধীদল এআইএডিএমকে জোট ৭১টি এবং ক্ষমতাসীন ডিএমকে জোট মাত্র ৫৮টি আসনে এগিয়ে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে একক দল হিসেবে বিজয়ের টিভিকে এখন বড় শক্তিরূপে আবির্ভূত হয়েছে।

বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন—পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব)। এর মধ্যে পেরাম্বুরে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকের আর. ডি. সেকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯১ সালে জয়ললিতার দুই আসনে লড়ার কৌশলের আদলেই বিজয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিজয় নিজেকে ‘প্রত্যেক তামিল পরিবারের সদস্য’ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বিজেপিকে ‘আদর্শগত শত্রু’ এবং ডিএমকে-কে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই ‘হুইসেল রেভল্যুশন’ বা ‘শিস বিপ্লবের’ ডাকে সাড়া দিয়েছেন তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ।

আরও পড়ুন:

জয়ী হলে বিজয় স্নাতকদের মাসে ৪ হাজার রুপি ভাতা, নারীদের জন্য ২ হাজার ৫০০ রুপি সহায়তা এবং বিয়ের উপহার হিসেবে সোনা ও শাড়ি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া সরকারি পরীক্ষাগুলো সময়মতো নেয়ারও নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি।

হলফনামা অনুযায়ী, প্রায় ৬২৪ কোটি রুপির সম্পদ নিয়ে বিজয় এই নির্বাচনের অন্যতম ধনী প্রার্থী। রাজনীতিতে পূর্ণ মনোনিবেশ করতে এরইমধ্যে রুপালি পর্দাকে বিদায় জানিয়েছেন ৫০ বছর বয়সি এই তারকা। দীর্ঘ সেন্সর জটিলতা কাটিয়ে তার সর্বশেষ সিনেমা ‘জন নায়কগন’ আগামী ৮ মে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

২০২১ সালের নির্বাচনে ডিএমকে জোট ১৫৯টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও; এবার বিজয়ের একক লড়াই তামিলনাড়ুর চিরাচরিত দ্বিমুখী রাজনীতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ‘থালাপতি’ বিজয়ের দল সরকার গঠনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে কি না।

এনএইচ