কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমরা মার্কিন সরকারের এই একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি। এটি কিউবার জনগণের ওপর একটি সমষ্টিগত শাস্তি।’
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে পহেলা মে রাজধানী হাভানায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিশাল এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল এবং সাবেক বিপ্লবী নেতা রাউল কাস্ত্রো অংশ নেন। মিছিল থেকে ‘মাতৃভূমি রক্ষা করো’ স্লোগান দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হুমকির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ফ্লোরিডায় এক বক্তৃতায় ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরান থেকে ফেরার পথে আমরা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে কিউবার উপকূলের মাত্র ১০০ গজ দূরে মোতায়েন করতে পারি। তখন তারা (কিউবা) বলবে—অনেক ধন্যবাদ, আমরা আত্মসমর্পণ করছি।’
গত জানুয়ারি থেকে ওয়াশিংটন জ্বালানি অবরোধ দেয়ায় কিউবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এরই মধ্যে নাজুক হয়ে পড়েছে। দেশটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। পর্যটন শিল্পেও ধস নেমেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক নিষেধাজ্ঞা তদন্তকারী জেরেমি প্যানার বলেন, কয়েক দশক আগে শুরু হওয়া কিউবা অবরোধের পর অ-মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য এটিই সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এখন তেল, গ্যাস ও খনি খাতের যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল, তারাও আর নিরাপদ নয়।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কিউবার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি উন্মুক্ত করা এবং ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কিউবা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের সমাজতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কোনো আপস বা আলোচনা হবে না। ডিয়াজ-কানেল এই অবরোধকে ‘গণহত্যামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে মার্কিন হুমকির বিরুদ্ধে কিউবানদের সোচ্চার হওয়ার ডাক দিয়েছেন।





