টানা ২ দিন বৃষ্টি না হলেও শনিবার সকাল থেকে সুনামগঞ্জে আবারও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে নদী ও হাওরের পানি, অন্যদিকে দুর্ভোগে বাড়ছে কৃষকদের। এরই মধ্যে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টরের বেশি ধান।
এমন পরিস্থিতিতে হাওরের অবশিষ্ট ধান কেটে ঘরে তুলার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন কৃষকরা। শনিবার সকালে সুরমা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। আগামী কয়েক দিন সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
আরও পড়ুন
এদিকে, কিশোরগঞ্জে দাপট দেখিয়ে চলেছে বৈরী আবহাওয়া। সকাল থেকেই থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে হাওরের কৃষক হারাতে বসেছেন তাদের শেষ সম্বল বোরো ধান। যে ধানটুকু কাটতে পেরেছেন, বৃষ্টির কারণে তাও শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। বজ্রপাতের শঙ্কায় মাঠে নামছেন না অনেক শ্রমিক। এদিকে শ্রমিক সংকটও বেড়েছে।
নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকাল পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে জেলার অন্যান্য উপজেলায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেশি বলে জানা গেছে। এদিকে হাওরের ধনু, বৌলাই ও কালনী নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়নি।
গত দুই দিনের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও বৃষ্টিতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে নেত্রকোনার হাওরের কৃষকদের মাঝে। এদিকে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জেলার সকল নদ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কৃষকরাও তাদের পানি তলিয়ে থাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চলনবিলে বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। অকেজো স্লুইস গেট এবং বিভিন্ন বাধ দিয়ে বিলে পানি প্রবেশ করায় বালির বস্তা, কোথাও আবার মাটির দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে আত্রাইসহ বিভিন্ন নদীর পানি। এতে করে সিংড়ার জোড়মল্লিকা , নিংগইন উত্তরপাড় এলাকায় বিলে পানি ঢুকছে। স্থানীয়রা দল বেধে মাটির বাঁধ দিয়ে রক্ষা করছেন হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করছে স্থানীয় প্রশাসন।





