২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ৮০ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রী রাজধানী নেপিদোর একটি সামরিক কারাগারে বন্দী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তাকে (সু চি) কারাগারের পরিবর্তে এখন থেকে নির্ধারিত একটি বাসভবনে সাজা ভোগের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সু চি সামরিক বাহিনীর দুই সদস্যের সঙ্গে বসে আছেন—এমন একটি ছবিও প্রচার করা হয়েছে।
তবে সু চির ছেলে কিম আরিস এই ঘোষণার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তার মা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তার কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই।’ প্রচারিত ছবিটিকে ‘অর্থহীন’ অভিহিত করে তিনি জানান, এটি মূলত ২০২২ সালের পুরোনো ছবি। কিম আরিস বিবিসিকে বলেন, ‘আমি আশা করি খবরটি সত্য। কিন্তু আমি এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখিনি। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তার অবস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি কিছুই বিশ্বাস করছি না।’
সু চির আইনি দলও জানিয়েছে, গৃহবন্দিত্বের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। গত তিন বছর ধরে আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি এবং পরিবারের সঙ্গেও তার কোনো যোগাযোগ নেই। ৩৩ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সু চির সাজা এর আগে কয়েক দফায় কমানো হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়া থেকে বাঁচতেই জান্তা সরকার এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। সু চির সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা শন টার্নেল বলেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বর্তমানে জনমত নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। তারা বিশ্বকে বোঝাতে চায় যে তাদের সরকার বৈধ।’ টার্নেল নিজেও সু চির সঙ্গে এক বছর কারাবন্দী ছিলেন। তিনি কারাগারের পরিবেশকে ‘মধ্যযুগীয় ও ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে সু চির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি দীর্ঘদিন অহিংস আন্দোলনের প্রতীক হলেও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাইতে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচিত হন। তবে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের কাছে এখনো তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।





