যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের ‘গোপন’ দৌড়ঝাঁপ

ইসলামাবাদ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছি
ইসলামাবাদ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছি | ছবি: সংগৃহীত
0

হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে পর্দার আড়ালে কাজ করছে পাকিস্তান। উভয় পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তানের মাধ্যমে বিভিন্ন ‘সূত্র’ বা ‘ফর্মুলা’ বিনিময় করছে। গতকাল (বুধবার, ২৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ‘উভয় পক্ষই বর্তমানে ব্যাক-চ্যানেল ডিপ্লোমেসি বা পর্দার আড়ালের কূটনীতিতে সক্রিয়। পাকিস্তান এই দুটি জ্বলন্ত সমস্যার একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। এমনকি আসিম মুনির গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।

অচলাবস্থার মূল কারণ
গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদ সফরের সময় একটি প্রস্তাব দেন। তেহরানের প্রস্তাব ছিল—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়, তবে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি পরবর্তী ধাপের জন্য তুলে রাখার প্রস্তাব দেয় ইরান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতেই পারমাণবিক ইস্যুটির সমাধান চাইছেন, যার ফলে আলোচনা থমকে আছে।

সূত্র জানায়, ‘ইরানের অবস্থান হলো—পারমাণবিক বিষয়টি জটিল এবং দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন। তাই সহজে সমাধানযোগ্য হরমুজ প্রণালির বিষয়টি আগে ফয়সালা হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় দুটি বিষয়েই একই সঙ্গে চুক্তি করতে।’ ট্রাম্প এখনো তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করছেন।

যুদ্ধ কি আবার শুরু হবে?
উভয় পক্ষ থেকে কড়া বিবৃতি দেয়া হলেও পাকিস্তান মনে করছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার বলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইসলামাবাদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাকিস্তানি সূত্রগুলোর মতে, এটি আসলে দুই পক্ষের ‘নার্ভ টেস্ট’ বা স্নায়ুচাপের লড়াই।

ইরানের ধারণা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী জনমত এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে আমেরিকা সহজে যুদ্ধে ফিরবে না। অন্যদিকে ওয়াশিংটন মনে করছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে।

পুতিনকে গ্যারান্টার চায় ইরান
আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি ওমান, রাশিয়া ও পাকিস্তান সফর করেছেন। জানা গেছে, ইরান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই চুক্তির ‘গ্যারান্টার’ বা জামিনদার হিসেবে চায়। তেহরান চায় রাশিয়া নিশ্চিত করুক যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল আর কোনো হামলা চালাবে না। এছাড়া ইরান একটি ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো’ নিয়েও কাজ করছে, যাতে বাইরের কোনো শক্তি এই অঞ্চলে আগ্রাসন চালাতে না পারে। তবে আরব দেশগুলোর সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের কারণে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এএম