ভিয়েনায় ওপেক সদর দপ্তরে চরম উদ্বেগ; ‘সংকটকালীন’ বৈঠকে কর্মকর্তারা

ওপেকের সদর দপ্তর
ওপেকের সদর দপ্তর | ছবি: সংগৃহীত
0

গত ৬৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক। বিদ্যমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং সংস্থার দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আকস্মিক সদস্যপদ ত্যাগের ঘোষণায় জোটটি এখন অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (বুধবার, ২৯ এপ্রিল) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ওপেকের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বৈঠকে সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অস্থিরতা ও উদ্বেগ দেখা গেছে। যদিও সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল সংস্থার বার্ষিক ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্টের ৬১তম সংস্করণ প্রকাশ। এই প্রতিবেদনে তেল আমদানি-রপ্তানি, মজুত ও বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে তেলের মজুত ও রপ্তানির পরিমাণ। এই রপ্তানি করা তেলের বড় অংশই গেছে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই পরিসংখ্যান আমিরাতের জোট ছাড়ার ঘোষণার আগের। দুবাইয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী বছরের প্রতিবেদনে ওপেকের তেল বাজারের চিত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।

ওপেকের সদর দপ্তরের ভেতরে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে মহাসচিবের দপ্তরের প্রধান জানান, আমিরাতের সদস্যপদ ত্যাগের বিষয়ে এই মুহূর্তে তাদের কিছুই বলার নেই। কর্মকর্তাদের এমন নীরবতা ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থেকে স্পষ্ট যে, ওপেকের ভেতরে এখন ‘সংকটকালীন জরুরি অবস্থা’ (ক্রাইসিস মোড) চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের বাজারে ওপেকের যে একাধিপত্য ছিল, আমিরাতের মতো বড় উৎপাদক দেশ বেরিয়ে গেলে সেই প্রভাব মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। এ নিয়ে সংস্থাটির ভেতরে এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এএম