শয্যা ও জনবল সংকটে নড়াইল সদর হাসপাতাল, ভোগান্তিতে রোগীরা

বেড সংকটে মেজেতে সুয়ে আছে রোগী
বেড সংকটে মেজেতে সুয়ে আছে রোগী | ছবি: এখন টিভি
0

নড়াইলের একমাত্র ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে জনবল ও শয্যা সংকটে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অর্ধেকেরও কম চিকিৎসক নিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। অল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে বাড়তি সেবা দিতে গিয়ে যেমন হিমশিম অবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের, তেমনি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদেরও।

নড়াইল ১০০ শয্যা হাসপাতালে শিশুদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৯টি বেড, রোগী ভর্তি রয়েছে ১৪৯ জন। বিছানা ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিলেও বহু শিশুকে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। এছাড়া মাত্র ১জন চিকিৎসক দিয়েই চলছে ওয়ার্ডটি। অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত ডাক্তারকে।

ডা. আলিমুজ্জামান সেতু বলেন, ‘২৫০ শয্যা করা গেলে আর পর্যাপ্ত ডাক্তারের ব্যবস্থা থাকলে চিকিৎসার মান আরও বাড়ানো যাবে।’

শুধু শিশু ওয়ার্ডই নয়, হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগেই একই অবস্থা। দুই তলা বিশিষ্ট হাসপাতালটির প্রতিটি ফ্লোর ও বারান্দায় রোগীর ভিড়। জেলায় বিকল্প কোনো হাসপাতাল না থাকায় রোগীদের চরম ভোগান্তি নিয়েই চিকিৎসা নিতে হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা নিতে যেতে হয় যশোর, খুলনা অথবা রাজধানীতে।

১০০ শয্যার এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসক থাকার কথা অন্তত ৪০ জন। বিপরীতে বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক আছেন মাত্র ১৯ জন। এর মধ্যে কনসালটেন্ট ১৯ জনের বিপরীতে ৪ জন, মেডিকেল অফিসার ৫ জনের বিপরীতে দুজন। ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ৪ জনের মধ্যে আছেন ২ জন। সহকারী সার্জন ৪ জনের বিপরীতে ৩ জন এবং অ্যানেসথেসিয়ায় ২টি পদ থাকলেও আছেন মাত্র একজন।

আরও পড়ুন:

হাসপাতালে যেমন ডাক্তারের সমস্যা, তেমনি যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা পরে থাকার কথা জানান চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনরা।

জনবল ও শয্যা সংকট নিয়েই রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপর মহলে বিষয়টি জানানো হলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস মিলেছে।

নড়াইল সদর হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল গাফ্ফার বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আশাকরি ডাক্তারের সংকট কেটে যাবে শিগগিরই।’

এদিকে, দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি দূর করতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন জনপ্রতিনিধিরা। সব সমস্যা দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা।

নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানের পরিবেশটা খুবি নোংরা। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে খুব শিগগিরই এর সমাধান করা হবে।’

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী অর্থ বছরের মধ্যে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা যাবে।’

জেলার সব হাসপাতালে ১১৫টি পদের বিপরীতে ডাক্তার আছেন মাত্র ৬১ জন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হোক, এমনটাই প্রত্যাশা।

জেআর