গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৬) এবং একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম (২৩)। পীরের দরবারে বা আস্তানায় হামলার সময়ের ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাদের চিহ্নিত করা হয়।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক বিপ্লব হোসেন ও আলিফ ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত করে রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন:
তবে মামলার এজাহারে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পীর হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবককে আজ (সোমবার, ২৭ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়।
এসময় রাজিবসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে তাকে নীচে ছুড়ে ফেলে।
এরপর হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তাণ্ডবলীলা চালায়। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হওয়ার ১৫ দিন পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হলো।





