নিহত দু’জন হলেন— মো. সোহেল হোসেন (৫২) ও তার ছেলে সাকিব হোসেন (১৮)। এ ঘটনায় সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহান হোসেনকে (২৭) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল হোসেন একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। বছরখানেক আগে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। এর পর থেকে বাড়িতে দুই ছেলেকে নিয়েই তিনি বসবাস করতেন। তার ছোট ছেলে সাকিব রাজধানী উত্তরায় একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি চাকরিও করতেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল (শনিবার, ২৫ এপ্রিল) রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিব হোসেনের মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেয়া ছিল, যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। এরপর তার দুই হাতের রগ কেটে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এছাড়া তার বাবা সোহেল হোসেনের মরদেহ পাশের বনমালা রেললাইনে পড়ে ছিলো এবং তার শরীরে রেলের আঘাতের চিহ্ন ছিলো বলেও জানায় পুলিশ।
আরও পড়ুন:
খবর পেয়ে ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহান হোসেন পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মস্থলে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন (নাইট ডিউটি) শেষে ফিরেই ঘুমিয়ে পড়ায় তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
যদিও পুলিশের উদ্ধারকৃত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় ভোররাতে বড় ছেলে সোহান হোসেন অচেতন অবস্থায় তার বাবাকে ঝাপটে ধরে টেনে হিচরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ ধারণা করছে, সোহান তার বাবাকে রেললাইনে নিয়ে রেখে আসে, পরে ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। তবে নিজ ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া ছোট ছেলেকে কে হত্যা করেছে সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘নিজ ঘর থেকে সাকিব হোসেনের মরদেহ এবং রেললাইন থেকে তার বাবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সোহেল হোসেনের বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত সাকিবের ফুপু বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’





