কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত স্বজনকে চিরবিদায় জানাচ্ছে গাজার এক শিশু। গেল বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর উপত্যকাটিতে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন আলোচনার মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে নানা অজুহাতে উপত্যকাটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে আইডিএফ। হত্যার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে সাংবাদিক, নারী, শিশুসহ নতুন নতুন নাম।
এবার ট্রাম্পের রাফাহ পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল আল-জাজিরার ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। প্রায় ১ মাসের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে গণমাধ্যমটি বলছে, বেইত হানুন ও রাফাহ শহরে স্থানীয়দের পুনর্গঠনের জন্য ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরিবর্তে জোরেশোরে চলছে সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ।
এছাড়াও, গাজা সিটি ও মধ্য গাজার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে প্রতিরক্ষা দুর্গ গড়ে তুলছে আইডিএফ। অনেক স্থানে সমতল ভূমির সঙ্গে সামরিক স্থাপনাগুলোকে যুক্ত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁধ।
আরও পড়ুন:
এমনকি তথাকথিত ইয়েলো লাইন বরাবর নতুন মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে ইসরাইল। গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, আইডিএফ সীমানা চিহ্ন কয়েকশ মিটার সরিয়ে নিয়েছে যা ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্ধারিত এলাকা দখলের প্রমাণ দেয়।
তবে শুরু থেকেই ট্রাম্পের রাফাহ পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছিল বিশ্লেষকরা। তাদের অভিমত, এটি রাফাহবাসীকে জোরপূর্বক বাস্ত্যুচ্যুত করার কৌশলগত প্রক্রিয়া। জানুয়ারিতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ধ্বংসপ্রাপ্ত রাফাহকে ঢেলে সাজানোর একটি এআই চিত্র প্রকাশ করে।
এদিকে, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেও গাজা পৌরসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ বছরেরও বেশি সময় পর আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে ভোটারদের মাঝে।
ভোটারদের একজন বলেন, ‘বাস্ত্যুচ্যুতদের জন্য বরাদ্দ করা নাগরিক সুবিধাগুলো যাতে সঠিকভাবে বণ্টন করা হয় এই দাবিই থাকবে প্রার্থীদের কাছে।’
নির্বাচন উপলক্ষে ধ্বংসস্তূপের নগরী সেজেছে পোস্টারের রঙ্গে। প্রার্থীদের প্রচার- প্রচারণায় উৎসবের রঙ স্বজন হারানো গাজাবাসীর মনে।





