৫০ দিনেই ৫০ হাজার কোটি ডলারের তেল হারিয়েছে বিশ্ব: রয়টার্স

জ্বালানি তেল বহনকারী পিভিটি সোলানা
জ্বালানি তেল বহনকারী পিভিটি সোলানা | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর গত ৫০ দিনে বিশ্ববাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল হারিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের হিসাব ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই জ্বালানি সংকটের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আগামী কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর ধরে অনুভূত হতে পারে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জ্বালানি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংকট শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজার থেকে ৫০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত জ্বালানি (কনডেনসেট) ছিটকে পড়েছে। এটি আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির প্রধান বিশ্লেষক ইয়ান মোয়াট এই ক্ষতির ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করে জানান, বাজার থেকে হারিয়ে যাওয়া এই ৫০ কোটি ব্যারেল তেল দিয়ে বিশ্বজুড়ে ১০ সপ্তাহের বিমানের জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। অথবা এই পরিমাণ তেল দিয়ে টানা ১১ দিন বিশ্বের সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ সচল রাখা যেত। অন্যভাবে বললে, পুরো বিশ্ব অর্থনীতি টানা পাঁচ দিন যে পরিমাণ তেল ব্যবহার করে, গত ৫০ দিনে ঠিক সেই পরিমাণ তেলই বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে।

রয়টার্সের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই ঘাটতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বিশাল অর্থনীতির দেশের টানা এক মাসের তেলের চাহিদার সমান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দফায় দফায় বন্ধ হওয়া এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি নৌ-অবরোধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

এএম