লেবাননের সঙ্গে সত্যিকারের শান্তিচুক্তি সম্ভব না: নেতানিয়াহু

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিইয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিইয়ামিন নেতানিয়াহু | ছবি: সংগৃহীত
0

হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা ছাড়া লেবাননের সঙ্গে সত্যিকারের শান্তিচুক্তি সম্ভব না। মঙ্গলবার বৈরুতের সঙ্গে ওয়াশিংটনে আলোচনার আগে এমন হুঁশিয়ারি দিলেন নেতানিয়াহু। বৈরুতের আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য তার। এদিকে প্রাণঘাতী হামলার মধ্যেই সরাসরি আলোচনায় রাজি হওয়ায় লেবানন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশটির সাধারণ মানুষ।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আওতায় ইরানে হামলা না চালালেও; লেবাননে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। দক্ষিণ লেবাননের তেফাহতা, কাফরা, হারিস, রাশাফ এবং কানা শহরসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বাড়ানো হয়েছে আগ্রাসনের তীব্রতা।

বহু বেসামরিক ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও, হিজবুল্লাহর দুই শতাধিক স্থাপনায় হামলার দাবি করছে ইসরাইল। আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে হতাহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা। ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি দুই হাজার ছাড়িয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখ মানুষ। পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহও। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত না থামার হুঁশিয়ারি ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটির।

এমন উত্তেজনার মধ্যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার মাধ্যমে লেবাননের সঙ্গে ইসরাইল সত্যিকারের শান্তি চুক্তি চায় বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে বৈরুতের সঙ্গে বৈঠকেরও কথা রয়েছে তেল আবিবের।

আরও পড়ুন:

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, লেবানন সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য বেশ কয়েকবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। ইতিহাসে আমাদের সাথে এমনটা আগে কখনো ঘটেনি। দুটি শর্তে আমি আলোচনার জন্য অনুমোদন দিয়েছি। প্রধান বিষয় হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। যার মাধ্যমে আমরা সত্যিকারের শান্তি চুক্তি চাই যা দীর্ঘস্থায়ী হবে।

এ অবস্থায় ইসরাইলের সঙ্গে ওয়াশিংটনে লেবানন সরকারের আসন্ন আলোচনা ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। বৈরুতে শনিবার হয়েছে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ। এসময় নিজেদের ভূখণ্ড দখলকারী তেল আবিবের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ায়, সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। তাদের দাবি, নাগরিকদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করছে না লেবানন সরকার। এসময় পতাকা হাতে হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা কর্মীদের হত্যাকারীদের কাছে শান্তি চায়। তাই প্রতিরোধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। ভূমি রক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমাদের সন্তানদের হত্যা করা হচ্ছে। গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি।

লেবাননের একমাত্র প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহ। আমরা তাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমাদের প্রেসিডেন্ট এবং নেতারা যা করছেন তা আমরা মেনে নিতে পারি না। কারণ তারা জনগণের বিরুদ্ধে, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এগুলো করছে। প্রয়োজনে আমরাও হিজবুল্লাহর সাথে লড়াই করব।

লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানেও। এমসয় ইসরাইলি হামলায় নিহতদের স্মরণে হয় শোক সমাবেশও। যুদ্ধবিরতির মধ্যে বুধবার একদিনে লেবাননে ৩ শতাধিক মানুষ হত্যা করায় তীব্র সমালোচনাও করেছেন স্মরণসভা অংশ নেয়া শত শত মানুষ।

এদিকে শুক্রবার ইসরাইলি হামলায় নিহত ১৩ নিরাপত্তা কর্মীকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন লেবাননের হাজার হাজার মানুষ।

ইএ