আজ (সোমবার, ৬ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের বালিচুর গ্রাম থেকে স্থানীয় জনতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— কথিত ‘আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস আসক ফাউন্ডেশন ন্যায্য বাজার লিমিটেড’-এর সভাপতি ও সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের ঝাউসি গ্রামের মো. জুয়েল, সাধারণ-সম্পাদক একই গ্রামের মোশারফ হোসেন, নারী সদস্য স্বপ্না আক্তার এবং নতুন সদস্য নাঈম। এছাড়া রাজেন্দ্রপুর এলাকার এক নারী শিক্ষার্থীকে আটক করা হলেও তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় মানবিক কারণে স্থানীয়রা তাকে ছেড়ে দেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে রৌহা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ন্যায্যমূল্যে সেবা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১২০ টাকা এবং মাসিক ১০ টাকা কিস্তির বিনিময়ে ‘সেবা কার্ড’ বিতরণ করছিলো এ চক্রটি। গলায় কথিত সংগঠনের আইডি কার্ড ঝুলিয়ে এবং নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন:
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা রৌহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেনকে অবহিত করেন। চেয়ারম্যান মুঠোফোনে তাদের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা তা অমান্য করে টাকা সংগ্রহ চালিয়ে যান। পরবর্তীতে কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় গ্রামবাসী তাদের আটক করে।
আটক স্বপ্না আক্তার জানান, তিনি এটিকে ভুয়া মনে করেননি। সভাপতি জুয়েল তাকে চাকরি দিয়েছিলেন এবং তিনি এ পর্যন্ত প্রায় আড়াইশো কার্ড বিতরণ করে টাকা জমা দিয়েছেন।
সংগঠনের সভাপতি জুয়েল দাবি করেন, তারা মানবাধিকার ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে কাজ করেন এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন হাসপাতালে সেবা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
নেত্রকোণা মডেল থানার এসআই ইয়াকুব আলী জানান, আটকরা এখন পর্যন্ত তাদের সংগঠনের কোনো বৈধতা বা নিবন্ধনের প্রমাণ দিতে পারেনি। অধিকতর তদন্তের জন্য তাদের থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বৈধতা না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





