আজ (শনিবার, ৪ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাবে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এসব তথ্য জানান।
এসময় পংকজ দত্ত বলেন, ‘গত ১ এপ্রিল সাড়ে ১০টায় শ্রীবরদী উপজেলার তাঁতিয়াটিতে তালাবদ্ধ অবস্থায় একটি স্টিলের বাক্স দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। এরপর পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল। বাক্সের তালা ভেঙ্গে তোশকে মোড়ানো হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।’
এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই। জানা যায়, নিহত ওই নারীর নাম ডলি আক্তার। তিনি নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থানার মো. আলাল মিয়ার কন্যা।
পরিচয় শনাক্তের পর গত ২ এপ্রিল নিহতের ভাই মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
আরও পড়ুন:
এরপর মামলার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই এবং গত ৩ এপ্রিল মরদেহ বহনকারী পিকআপ ভ্যানটি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া থেকে জব্দ করা হয়। পরে পিকআপ ভ্যানের ড্রাইভার মো. আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামিকে ধরতে গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ ও ময়মনসিংহে অভিযান পরিচালনা করে পিবিআই।
এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৪ এপ্রিল মধ্যরাতে শেরপুর সদরের কানাশাখোলায় চেকপোস্ট বসিয়ে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি নিয়ামুর নাহিদ ও সহযোগী আসামি তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
এদিকে, আজ দুপুরে আসামিদ্বয়কে শেরপুর আদালতে পাঠানো হলে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৬ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মামলার প্রধান আসামি নিয়ামুর নাহিদ জানায়, গত ৩০ মার্চ রাতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ডলি আক্তারকে তার ভাড়া বাসায় আনে সে। এক পর্যায়ে টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়াতে চিৎকার চেচামেচি শুরু করে ডলি আক্তার।
সেসময় লোকলজ্জার ভয়ে গলায় গামছা পেচিয়ে ডলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নাহিদ। ঘটনার পরে তার স্ত্রীর সহযোগীতায় লাশটি তোশক দিয়ে পেচিয়ে হাত পা বেঁধে স্টিলের বাক্সে করে শেরপুরের শ্রীবরদি উপজেলার তাতিহাটি এলাকার রাস্তার পাশে ফেলে যায়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুস সালাম, এস আই মো. ফয়জুর রহমান, এস আই মো. সামিউল ইসলাম, এস আই মো. হাফিজুর রহমান, এ এস আই আয়াতুল, এএসআই আলমগীর, কনস্টেবল নাজমুল মনির, প্রসেনজিৎ জাহিদ ও সাদ্দাম।





