হরমুজ প্রণালির কাছে আরও একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

এ-১০ ওয়ার্থগ বিমান
এ-১০ ওয়ার্থগ বিমান | ছবি: রয়টার্স
0

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন এ-১০ বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে। ঘটনাটি ওই কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরের কাছে ঘটেছে, যা এখনো আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।

সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কৌশলগত জলপথের দক্ষিণে এবং এর আশপাশের সীমায় বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’ তবে বাইরের কোনো সূত্র এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

আল জাজিরার প্রতিবেদন বলা হয়, এ-১০ একটি মার্কিন স্থল-আক্রমণ বিমান, যা কাছাকাছি আকাশ সহায়তা মিশনের জন্য তৈরি। এটি বিশেষ করে সাঁজোয়া যান ও স্থলবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নকশা করা।

এদিকে ইরানের আকাশে ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। সিএনএন তিনটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি জীবিত এবং তাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে’ নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত।

সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের আকাশে বিমানটি হারানোর পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এক সূত্রের দেয়া কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, ভূপাতিত বিমানটি ছিল একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান।

এই মডেলটি দ্বৈত-ভূমিকার বিমান, যা ‘আকাশ থেকে আকাশে’ এবং ‘আকাশ থেকে ভূমিতে’ উভয় ধরনের অভিযানে ব্যবহৃত হয়। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব বিমান সাধারণত দুই সদস্যের একটি দল দ্বারা পরিচালিত হয়—একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা।

সামরিক কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, আর বাকি কর্মীদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনের পর এ তৎপরতা শুরু হয়। সিএনএন-এর বিশ্লেষণে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির ধ্বংসাবশেষকে এফ-১৫-এর সঙ্গে মেলানো হয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও জানায়, ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি গতকাল (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল) প্রথম ওই বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার খবর দেয়।

আরও পড়ুন:

পরবর্তীতে আইআরআইবি এক্সে একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে দুই মার্কিন পাইলটের সন্ধান সকাল থেকেই যে এলাকায় চলছে, তা চিহ্নিত করা হয়।

সুনির্দিষ্ট দুর্ঘটনাস্থল এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে সিএনএন খুজেস্তান প্রদেশে কারুন নদীর ওপর একটি সেতু থেকে ধারণ করা ফুটেজের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণ করেছে। প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে তেহরানের কাছাকাছি ওই ফুটেজে নিচু দিয়ে উড়তে থাকা বিমান ও হেলিকপ্টার দেখা যায়, যা আকাশে জ্বালানি ভরার অভিযানে ব্যবহৃত গঠনের মতো।

চলমান সংঘাতে ইরানের ওপর কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলছিল, আর এর মধ্যেই ইরানি গণমাধ্যম ধ্বংসাবশেষের ছবি, যার মধ্যে একটি পেছনের লেজের অংশও ছিল, প্রকাশ করতে শুরু করে।

ছবিগুলো দেখে বিমানটিকে যুক্তরাজ্যের আরএএফ লেকেনহিথভিত্তিক ৪৯৪তম ফাইটার স্কোয়াড্রন ‘এলএন’-এর বিমান বলে শনাক্ত করা হয়।

ধ্বংসাবশেষের ছবি ও চলমান অনুসন্ধান সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং হোয়াইট হাউস এখনো পাইলটদের অবস্থা বা দুর্ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সন্ধান অব্যাহত থাকলেও আইআরআইবি বলছে, ‘পাইলটদের ভাগ্য এখনো স্পষ্ট নয়’।

এএম