দরজায় কড়া নাড়ছে গ্রীষ্ম মৌসুম। তবে এর আগেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গরমের দাপট। গরমে দেশটির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ানোর শঙ্কা আবহাওয়া বিভাগের।
সাধারণত কাঠফাটা গরমে স্বস্তির পরশ বয়ে আনে পানি। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে দেশটির ছয় বিলিয়ন ডলারের বোতলজাত পানিশিল্পেও। এরইমধ্যে শীর্ষস্থানীয় বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিসলেরি তাদের পণ্যের দাম ১১ শতাংশ বাড়িয়েছে। এখন থেকে ব্র্যান্ডটির ১২ বোতলের একটি কেস কিনতে বাড়তি ২৪ রুপি গুণতে হবে ক্রেতাদের। দাম বাড়ানোর আভাস দিয়েছে অন্যান্য ব্র্যান্ডও।
কিন্তু যুদ্ধের প্রভাব কেন ঝুঁকিতে ফেলছে পানি শিল্পকে তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে বিবিসি। গণমাধ্যমটি বলছে, প্লাস্টিক তৈরির প্রধান উপাদান পলিমার বা পিইটি আসে অপরিশোধিত তেল থেকে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম। যার প্রভাবে কেজিপ্রতি পিইটি রেজিনের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৭০ টাকা দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:
এছাড়াও সংঘাতের প্রভাবে বোতলের ছিপির দামও বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। পাশাপাশি লেবেল ও প্যাকিজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত কার্ডবোর্ড বক্সের দামও ২০- ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বড় ব্যবসায়ীরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারলেও ঝুঁকিতে রয়েছেন ভারতের প্রায় দুই হাজার ক্ষুদ্র পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারেরা। এরইমধ্যে পাইকারি পর্যায়ে বোতলপ্রতি এক টাকা বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে, সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়াতে পারে। কাঁচামাল সংকটে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বেশ কিছু কারখানা।
ডেটা ফর ইন্ডিয়ার সমীক্ষা বলছে, ভারতের প্রায় ১৫ শতাংশ শহুরে পরিবার ও ছয় শতাংশ গ্রামীণ পরিবার বোতলজাত পানির ওপর নির্ভরশীল। তবে বিশ্লেষকদের শঙ্কা, আসন্ন গরমে বিশুদ্ধ পানির জন্য পরিবারগুলোকে বাড়ত অর্থ খরচ করতে হবে।
চলমান সংঘাতের ছাপ পড়েছে ভারতের এলপিজি খাতেও। এরইমধ্যে দেশটির গ্যাসনির্ভর অনেক শিল্প কারখানা লাকড়ি জ্বালিয়ে সনাতনী পদ্ধতিতে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গ্যাসের অভাবে সাময়িক বন্ধ অনেক রেস্টুরেন্ট।





