আজ (বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল) বিকেলে নজরপুর এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় কয়েকশো কৃষক ও অন্যান্য পেশাজীবিরা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তারা বলেন, গত কয়েক দশকে হাজরো বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে। কয়েক হাজার কৃষক ভূমিহীন হয়ে বাধ্য হচ্ছেন পেশা পরিবর্তনে। ফসলি জমি ও গ্রাম রক্ষায় দ্রুত বেরিবাঁধ নির্মানের দাবিও করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
আসলাম ফকির নামে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কয়েক বিঘা জমি নদী গর্বে বিলীন হয়েছে। মাত্র এক যুগের ব্যবধানে কয়েকশো পেশাদার কৃষক পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কাজে যারা পারদর্শী নয়, তারা গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। গত কয়েক দশকে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজারো কৃষক। যেন দেখরও দেখার কেউ নেই।’
আরও পড়ুন:
বারেক নামে আরেকজন কৃষক বলেন, ‘গত কয়েক দশকে প্রায় হাজার বিঘা জমি নদীভাঙনে নষ্ট হয়েছে। আমাদের জমির উপর দিয়ে এখন ট্রলার চলে, নদীর ওইপারে চড় জেগেছে। সেখানে আমাদের জমির উপর ওইপারের মানুষ বসত করেছে। সব হারিয়ে আমরা এখন প্রায় নিঃস্ব। যেটুকু জমি আছে দ্রুত এখানে বাঁধ নির্মাণ না করা হলে সেটুকুও হারাতে হবে। আমরা দল বুঝিনা, আমরা দ্রুত একটি বেরিবাঁধ চাই।’
মানববন্ধনে ইকবাল বকশী নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘এই ফসলের মাঠে ধান, পাট, গম, বেগুন, বাদাম ইত্যাদি চাষাবাদ হতো। এখন জমি নাই, চাষাবাদ কমে এসেছে তিন ভাগের এক ভাগে। যারা পেশা পরিবর্তন করে দেশের বাইরে যেতে পারছেন তারা কোনো রকমে চলতে পারছেন, আর আমরা যারা দেশের বাইরে যাওয়ার সাধ্য নেই তারা অন্যের জমিতে কাজ করছি। এই কাজও সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত এখানে বেরিবাঁধ নির্মাণ না করলে আমাদের গ্রামসহ নদীগর্ভে বিলীন হবে।’





