ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইসরাইলের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ সীমান্তে লেবাননের হিজবুল্লাহ’র শক্ত প্রতিরোধ।
গেল ৫ সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত দক্ষিণ ইসরাইলে আইডিএফের ঘাঁটি, অস্ত্রের ডিপোতে হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ। স্থানীয় সময় বুধবার সকালেও ইসরাইলের গ্যালিলি অঞ্চলে একের পর এক রকেট ছুড়েছে তারা। মঙ্গলবার দিনভর আইডিএফের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি লেবানিজ সংগঠনটির।
জবাবে দক্ষিণ লেবানন প্রান্ত ও বৈরুতের শহরতলীতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে শীর্ষ কমান্ডার ও নেতাদের। এর পরপর-ই ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ'র সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেও দক্ষিণ লেবাননের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেবে আইডিএফ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননে একটি স্থায়ী সামরিক বাফার জোন তৈরি করা। বৈরুত স্বীকার করেছে, সাম্প্রতিক এই আগ্রাসনে দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট ও আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে লেবানন।
আরও পড়ুন:
এদিকে, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে অজ্ঞাত হামলায় ৩ শান্তিরক্ষীর প্রাণ যায়। এরপর মঙ্গলবার, প্রাথমিক তদন্ত শেষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জানানো হয়, রাস্তার পাশে একটি বিস্ফোরণের কারণে ইন্দোনেশিয়ান দুই শান্তিরক্ষীর প্রাণ গেছে। যদিও এই বিস্ফোরণের পেছনে সরাসরি হিজবুল্লাহ’কে দায়ী করেছে ইসরাইল।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ’র পর গেল ২৮ মার্চ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর ইলাতে হামলার মধ্যে দিয়ে এই যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয় ইয়েমেনি হুতিরা। সবশেষ বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে ইসরাইলের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালায় তারা। এছাড়াও, ইরানকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে আবারও সক্রিয় হয়েছে হুতিরা। তাদের লক্ষ্য ইরান ও ফিলিস্তিনের ওপর আগ্রাসনকারীদের জাহাজ আটকানো। ফলে, লোহিত সাগরের সমুদ্র পথও পরিণত হচ্ছে নয়া রণক্ষেত্রে। এছাড়াও, চলমান সংঘাতে ইরানের হয়ে ইরাকের মার্কিন ঘাঁটি ও বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান সমর্থিত সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলো।
তবে আগ্রাসনের শিকার না হলে ইরান সংঘাত থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সিরিয়া। সিরীয় প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর মতো অবস্থায় নেই দামেস্ক। বিশেষ করে লেবাননে অস্ত্র পাচার ঠেকাতে কঠোরভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে আহমেদ আল-শারা সরকার। মূলত সক্রিয় নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রেখে কোনো পক্ষকেই সুবিধা দিতে রাজি নয় সিরিয়া।





