ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে বারবার জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও হত্যা করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে কোনো রাজতন্ত্র থাকে না, সেখানে বংশপরম্পরায় শাসনেরও ব্যবস্থা থাকে না। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয় এবং দেশ পরিচালনা করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অতীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বারবার জনগণের ভোটের অধিকার খর্ব করা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যা করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
‘টানা ১৫ বছরের গুম, খুন ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চিত্র’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সবশেষ ২০০৯ সালে যারা সরকার গঠন করেছিল, তারা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ডামি ও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে জাতির ওপর প্রচণ্ড দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়ে তাণ্ডব চালানো হয়েছে।’
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের রূপরেখা
আলোচ্য ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ উত্থাপনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘এত রক্তের বিনিময়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা হলো ওই ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে। একটি ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের ওপরে এমন একটি দেশ কায়েম হবে, যেখানে নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার পাবে।’
তিনি বলেন, ‘এই আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছেন।’
বক্তব্যের শেষে তিনি বিরোধী দল ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এই গুরুত্বপূর্ণ সনদের ওপর উন্মুক্ত ও যৌক্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং বিরোধী দলের সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দেয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ রাখেন।





