আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটির বেশি) দেশে ফেরত আনা হয়েছে যা সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার প্রতারণা দমনে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ (সোমবার, ৩০ মার্চ) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত এমটিএফই প্লাটফর্মটি মূলত একটি প্রতারণামূলক পনজি স্কিম, যার মাধ্যমে অসংখ্য বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।’
তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও ভিডিওর মাধ্যমে সহজে আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হতো।
ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে আস্থা তৈরি করা হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু বিনিয়োগকারীকে অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পর ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম গুটিয়ে নেয় প্লাটফর্মটি। ফলে হাজারো বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ হারান। তদন্তে উঠে আসে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ শনাক্ত করে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি-তে “সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ’’ নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়, যেখানে উদ্ধারকৃত অর্থ জমা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে দেশে আনা হয়।
সিআইডি জানায়, এ পর্যন্ত মোট ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি কূটনৈতিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।





