ইরানে সংঘাতে শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, ইউনেস্কোর উদ্বেগ

ইরানের ঐতিহাসিক স্থাপনা
ইরানের ঐতিহাসিক স্থাপনা | ছবি: সংগৃহীত
1

চলমান সংঘাতে ইরানের শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেহাই পায়নি ইউনেস্কোর হেরিটেজ সাইট গোলেস্তান প্যালেস ও নাকশ- ই জাহান স্কয়ারও। ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, স্থাপনাগুলোতে হামলার মাধ্যমে ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইল। উদ্বেগ জানিয়ে সব পক্ষকে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান ইউনেস্কোর।

শুধু ইরানের সরকারি- বেসরকারি স্থাপনা কিংবা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, চলমান সংঘাতে মার্কিন- ইসরাইল যৌথ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার ইরানের ঐতিহাসিক স্থাপনাও।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দাবি, যুদ্ধে ইরানের প্রায় শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলা থেকে রেহাই পায়নি ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটগুলোও।

ইরান ঐতিহ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংস্কৃতি উপমন্ত্রী আলী দারাবি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের দেশের ১২টি প্রদেশের ১০৮টিরও বেশি ঐতিহাসিক স্থানে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি জাদুঘরও রয়েছে।’

দারাবির অভিযোগ, স্থাপনাগুলোয় হামলার মাধ্যমে ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেশনের সরাসরি লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইল। যুদ্ধের সময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে আইনটি প্রণীত হয়েছিল।

হামলার তালিকায় রয়েছে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গোলেস্তান প্যালেস, গ্র্যান্ড বাজার ও সিনেট ভবন। এছাড়াও, ইসফাহানে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় থাকা নাকশ- ই জাহান স্কয়ারও বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:

গোলেস্তান প্যালেস কাজার আমলের একটি স্থাপনা। প্রাচীরবেষ্টিত প্রাসাদটি পারস্যের কারুশিল্প ও ইউরোপীয় মোটিফ ও শৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত। রয়টার্সের ফুটেজে দেখা যায়, হামলার শিকার গোলেস্তান প্যালেস অভ্যন্তরে এখন ভুতুড়ে পরিস্থিতি। ভেঙে গেছে বেশিরভাগ অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির ছাপ দৃশ্যমান মেঝেজুড়ে।

ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন ইউনেস্কোও। সংস্থাটি সকল পক্ষকে হেরিটেজগুলোতে হামলা না চালানোর হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের পরিচালক লাজারে এলুন্দু আসোমো বলেন, ‘হেরিটেজের সুরক্ষা শুধু একটি অঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রক্ষা করাই নয়, বরং এগুলো শান্তি সম্প্রীতির প্রতীক। আমরা এগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে এগুলো ভাবমূর্তি রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় শীর্ষে তেহরান। রাজ্যটির অন্তত ৬০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, ইসফাহানের ২০টি ও কেরামানশাহ প্রদেশের ৪টি স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে।


এফএস