গত ২৩ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় শ্রমিকদের একাংশ। মূলত বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে এমন ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি শ্রমিকদের। ঘটনার পর থেকে বাগানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় শ্রমিকদের একজন বলেন, ‘২০১৮ সালের ২৪ জুন নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচন হবার পরে আর কোনো নির্বাচন হচ্ছে না।’
চা শ্রমিক সংগঠনের কাঠামো মূলত পঞ্চায়েত, ভ্যালি এবং শ্রমিক ইউনিয়ন- এই তিন ধাপে বিভক্ত। শ্রমিকদের ভোটে ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হয় কমিটি। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে সংগঠনগুলোর কার্যক্রম চলায় শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ ও অস্থিরতা।
তেলিয়াপাড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি লালন তাঁতী বলেন, ‘নির্বাচন সময়মতো হলে গ্রুপিং করার সময় হতো না। বড় সমস্যা হলো একটি গ্রুপিং হচ্ছে, ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন বাগানে দাঙ্গা হাঙ্গামা শুরু হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ চা কন্যা সংসদ সভাপতি খায়রুন আক্তার বলেন, ‘নির্বাচন না হওয়ার জন্য মালিক পক্ষের সঙ্গে বর্তমান যে কমিটি আছে তারা বসতে পারছে না। তারা মেয়াদ উত্তীর্ণ। আমাদের যে দাবি আছে তা নিয়ে আলোচনা করতে পারছে না।’
বর্তমানে নেতৃত্বে থাকা নেতাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের জন্য ২০২২ সালেই শ্রম অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছেন তারা। তবে নানা জটিলতায় নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনের খরচ নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘এ নির্বাচন না হওয়ার ফলে প্রতিটি চা বাগানে সমস্যা হচ্ছে। একটি নির্বাচিত কমিটির যে মূল্য থাকে এখন যারা আছে তাদের নেই। কারণ তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিটি চা বাগানে প্রতিপক্ষ যারা আছে কারা ডিস্টার্ব হচ্ছে।’
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে প্রায় এক লাখ। শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত নির্বাচন মাধ্যমে সাংগঠনিক সংকট নিরসন এবং বাগানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।




