ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়েই রণক্ষেত্রে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। এফ ৩৫ এর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে ২শ'র বেশি যুদ্ধবিমান। এই বহরে আছে ৪০ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা বহনে সক্ষম স্টেলথ বি-২ বাঙ্কার বাস্টার, একবারে সর্বোচ্চ ২৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী বি-২ বোমারু বিমান। ব্যালেস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও আছে রিপার ড্রোন, একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন এফএলএম-১৩৬ লুকাস।
কিন্তু যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এসে দেখা যাচ্ছে আইআরজিসির মোজাইক প্যাটার্ন যুদ্ধ কৌশল, অস্ত্রের ব্যবহার ও লক্ষ্যবস্তু আক্রমনের ধরণ রীতিমতো বেকায়দায় ফেলেছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে।
এই আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে ইরানের শাহেদ ড্রোন। স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সেন্টারের তথ্য, একটি শাহেদ ড্রোন তৈরিতে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের মতো খরচ হয়। আর রয়টার্স বলছে, মার্কিন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের খরচ প্রায় ৪০ লাখ ডলার, যা দিয়ে ১১৫টি শাহেদের মতো একমুখী ড্রোন তৈরি করা সম্ভব।
আরও পড়ুন:
কৌশলগত দিক থেকে ড্রোন হামলা নিখুঁত না হলেও এর সাফল্য নির্ভর করে কী পরিমাণের ড্রোন ছোড়া হচ্ছে তার ওপর। এক সঙ্গে ঢেউয়ের মতো শতশত ড্রোন ছুঁড়লে তা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে ফেলে। ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামার, ইন্টারসেপ্টর কিংবা উচ্চশক্তির লেজারও নাস্তানাবুদ হচ্ছে ইরানি ড্রোনের আঘাতে।
সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই ইরান এক হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। রয়টার্সের অনুমান মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে ইরান। বিপরীতে ড্রোন হামলা ঠেকানো জন্য ব্যবহৃত থাড বা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ফুল ব্যাটারি সিস্টেমের খরচ ১০০ কোটি ডলারের বেশি আর ইন্টারসেপ্টর ইউনিটের খরচ কয়েক লাখ ডলার।
এছাড়াও,অফলাইন নেভিগেশন বা উড্ডয়নের ঠিক আগেই জিপিএস দিয়ে নিজেদের অবস্থান ঠিক করে নেয়ার কারণে ইরানের ড্রোনের সিগন্যাল নষ্ট করতে পারে না ডিফেন্স সিস্টেম। এছাড়াও, হালকা ওজনের প্লাস্টিক ও ফাইবারগ্লাস দিয়ে তৈরি হওয়ায় এই ড্রোন সহজে ধরা পরে না রাডারে। ফলে ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক ও প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে হচ্ছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে।





