জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ হয়েছে লবণসহিষ্ণু এই ফলের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা চাষি ও কৃষি বিভাগের।
বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বরগুনার বেতাগী উপজেলার রোহিতার বালুচর একসময় পতিত থাকলেও অনেক ঘটেছে কৃষি বিপ্লব। গত বছর এই চরে ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবছর তা বেড়ে ১০০ একর ছাড়িয়েছে। চাষিদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই আগাম জাতের তরমুজই বদলে দেবে তাদের ভাগ্য।
রোহিতার বালুচরে সবচেয়ে বড় তরমুজ চাষি রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘এই পুরো জমিতে আমার দেড় কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে ও দাম ভালো পেলে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি করবো।’
আরও পড়ুন:
অল্প সময়ে বিনিয়োগের দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ লাভ করায় দিন দিন চাষিদের ভরসা হয়ে উঠছে লবণসহিষ্ণু তরমুজ চাষ। তাদের দাবি, সরকারি ঋণ সুবিধা ও চরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে বাড়বে চাষের পরিধি।
রোহিতার চরের আরেক চাষী রহিম ফরাজী বলেন, ‘এই চরটি বিষখালি নদীর উপর জেগে উঠেছে। এখানে চাষাবাদ উপযোগী করতে পুরো চর ঘিরে একটি বেড়িবাঁধ রিবাধ নির্মাণ করতে হয়েছে। যা নির্মাণ করতে আমাদের খরচ হয়েছে ৫০ লাখেরও বেশি টাকা। কিন্তু ঝড় বন্যায় এই বেড়িবাঁধ টিকবে কিনা সেটি নিয়ে এখনও আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তাই সরকার যদি এখানে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেয় তাহলে চাষের জমি আরও বৃদ্ধি পাবে।’
জেলার প্রায় সবকটি উপজেলায়ই এখন তরমুজ চাষের ধুম পড়েছে। দিনরাত চলে পরিচর্যা। রোদে পুড়ে ফলানো এই তরমুজ ঘিরেই এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন উপকূলীয় এই জনপদের চাষিরা। জেলায় এবার মোট ১২ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে তরমুজ। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১২৬ হেক্টর বেশি।
আরও পড়ুন:
বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ‘এবছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তরমুজ চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।’
প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে, বরগুনার এই আগাম জাতের তরমুজ শুধু চাষিদের মুখেই হাসি ফোটাবে না, বরং রমজানে ভোক্তাদের রসালো ফলের চাহিদাও পূরণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





