স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই উদ্বেগের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘মহাসচিব আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। তিনি অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যেকোনো মতপার্থক্য কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করার জন্য পক্ষগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।’
বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ লিপ্ত। ডুরান্ড লাইন বা সীমান্ত রেখা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে এই সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের তোর্খাম সীমান্ত পারাপারের একটি ট্রানজিট ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগ।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার দিনভর দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশি সংবাদমাধ্যমের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অভিযানে আফগান বাহিনীর ২৯৭ জন নিহত এবং ৪৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া আফগানিস্তানের ৮৯টি সেনা চৌকি এবং ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র দাবি করেছেন, তাদের হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৯টি সেনা চৌকি। তালেবান পক্ষ আরও স্বীকার করেছে যে, পাকিস্তানের হামলায় তাদের আটজন যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আফগানিস্তানের নানগরহার প্রদেশে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোনো পক্ষই একে অপরের দেয়া হতাহতের এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
যুগ যুগ ধরে চলা যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অবস্থা এখন আরও শোচনীয়। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশটির প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র ১১ শতাংশ (১৮১ মিলিয়ন ডলার) সহায়তা পাওয়া গেছে, যা কার্যক্রম পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের এই সংঘাতের আবহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘পাকিস্তান অসাধারণভাবে ভালো করছে।’
এই সংঘাতে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি করতেও পারি। তবে আপনারা জানেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। আপনাদের একজন দারুণ প্রধানমন্ত্রী এবং শক্তিশালী জেনারেল আছেন। তাদের দুজনকে আমি খুবই সম্মান করি।’
মহাসচিবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অস্ত্রের লড়াই সমস্যার সমাধান না করে বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করে দেবে। তিনি উভয়পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জোর তাগিদ দিয়েছেন।



