গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানিক মিয়া এভিনিউতে, বৃহৎ সমাবেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। শুরুর দিনটা যতটা রঙিন ছিলো, এক বছরের সামগ্রিক যাত্রায় তার কতটা রঙ হারালো, নাকি কাঙ্ক্ষিত পথেই চলছে সেই সমীকরণ মেলাচ্ছেন দলটির নেতারা।
এক বছরে প্রথম সংকট পড়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত পূরণে। নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে শাপলা পাওয়া না পাওয়ার দোলাচলে ইসির সঙ্গে বেশ জটিলতায় পড়ে তারা। তবে সে পর্ব শাপলা কলিতে উৎরে গেলেও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন কেন্দ্র করে, দল ছাড়েন আলোচিত অনেকেই।
তবে জোটের লাভ-ক্ষতির খতিয়ান মেলাতে গিয়ে দলটির নেতারা বলছেন- স্বকীয় রাজনীতি গঠনে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হলেও সফলতা কম নয়।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সুবিধা-অসুবিধা, দুটিই হয়েছে। আমরা সারা দেশের শাপলা কলি প্রার্থী দিতে পারিনি। এটা জোটের কারণে আমাদের একটা সুযোগ হারিয়েছি। কিন্তু জোট থাকার কারণে আমরা ৩০টি আসনে খুব ভালো ফাইট দিতে পেরেছি। ছয়টা বিজয় সম্ভব হয়েছে আসলে জোট থাকার কারণে।’
আরও পড়ুন:
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা খুব অল্প সময়ে যতটুকু মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি, সামনের দিনগুলোতে এনসিপির প্রতি জনগণের যে আস্থা এবং বিশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছে তাতে করে এনসিপির স্বকীয় যে ধারা আছে, সে ধারায় আমরা আমাদের রাজনীতি পরিচালনা করবো।’
আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে এনসিপির নেতাদের সরল স্বীকারোক্তি- অভিজ্ঞতার এখনো অনেক ঘাটতি আছে তাদের।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে গিয়ে আমাদের কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। আমাদের অনভিজ্ঞতা বা সীমাবদ্ধতা ছিল।’
এনসিপি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের কিছু আক্ষেপ আছে, কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেটা স্বীকার করে, সেগুলোকে অ্যাড্রেস করেই আমরা আমাদের নতুন কার্যক্রমগুলো নিচ্ছি।’
আরও পড়ুন:
আগামীর রাজনীতিতে, প্রতিপক্ষ হিসেবে একদিকে বিএনপিকে মোকাবিলা করবে এনসিপি। অপরদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ফেরানোর যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতাও জারি রাখবে তারা— অভিমত এনসিপি নেতাদের।
সারজিস আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে অবশ্যই অপরাধের বিরোধী রাজনীতি হবে, অপরাধীদের বিরোধী রাজনীতি হবে। আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে রাজনীতি করার প্রাসঙ্গিকতা থাকতে পারে না। যখন দেখবো যে বাংলাদেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থবিরোধী অবস্থা বিএনপি নিচ্ছে, অন্য যেকোনো দল নিচ্ছে, আমরা এটার বিরুদ্ধে যেমন সংদের কথা বলবো তেমনি রাজপথেও কথা বলবো।’
আপাতত সামনের স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি একক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে- এমন প্রত্যাশাও রয়েছে দলের নেতাদের।





