দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো ক্যাপিটাল হিলে স্টেট অব ইউনিয়নের ভাষণ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট বক্তব্য দিয়ে স্টেট অফ দ্য ইউনিয়নের ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদী বক্তব্যের রেকর্ড গড়লেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই নিজ সরকারের নেয়া অর্থনৈতিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসায় মাতেন ট্রাম্প। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন অর্থনীতিতে সম্পূরক শুল্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্কের ফলে আমরা বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করতে পেরেছি। এতোদিন যারা আমাদের পকেট থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে যেত, এখন তারা আমাদের দেশে নতুন করে বিনিয়োগ করছে। এর ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নেই, প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক।’
এছাড়া, বক্তব্যে অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত সুরক্ষা কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ভোটার আইডি বিলের পক্ষে ভোট দিতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বানও জানান।
তবে ট্রাম্পের দীর্ঘ বক্তব্যের একটি বড় অংশ ছিলো বিরোধী ডেমোক্রেট শিবিরের সমালোচনা। ট্রাম্পের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলো চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। এসব জিনিস ঠিক করার দায়িত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাঁধে।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প বলেন, ‘বিগত বাইডেন প্রশাসন ও তাদের আইনপ্রণেতারা আমাদের অর্থনীতিকে ডুবিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার ১২ মাসের মধ্যে আমরা মুদ্রাস্ফীতি বিগত পাঁচ বছরের সবচেয়ে নিম্ন স্তরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।’
বৈশ্বিক ইস্যুগুলোও প্রাধান্য পায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেও এখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি ইরান।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসুক। তবে দেশটি সমঝোতার আড়ালে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাবে, এটি আমি কখনোই মানব না।’
এছাড়া, স্টেট অফ দ্য ইউনিয়নের বক্তব্যে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান, গাজা যুদ্ধবিরতি ও অঞ্চলটি পুনর্গঠনে বোর্ড অব পিস গঠনে নিজের কৃতিত্ব তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।





