Recent event

চুক্তি করাই ইরানের জন্য মঙ্গলজনক— তেহরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আলী খামেনি
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আলী খামেনি | ছবি: সংগৃহীত
2

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আব্রাহাম লিংকনের পর এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগুচ্ছে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড। সেইসঙ্গে তেহরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, চুক্তি করাই ইরানের জন্য মঙ্গলজনক। এ অবস্থায় দুই-তিন দিনের মধ্যে খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হবে বলে বার্তা ইরানের।

পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক রণতরীর বহর পাঠিয়ে ইরানের ঘারে যুদ্ধের নিঃশ্বাস ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দিতে দ্বিতীয় রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ডের সময় লাগবে মাত্র কয়েকদিন। এরইমধ্যে মরক্কো ও স্পেনের মধ্যকার পানিপথ জিব্রাল্টা প্রণালী অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে জেরাল্ড আর ফোর্ড।

শুধু তাই নয়, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ বাড়তেই উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত অ্যাজোরেস বিমান ঘাঁটির টারম্যাকে প্রস্তুত হতে দেখা গেছে মার্কিন বেশ কয়েকটি সামরিক বিমান। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে নেয়া প্রস্তুতির পর এবারই প্রথম মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে সবচেয়ে বড় সমরাস্ত্র বহরের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ১০-১৫ দিনের মধ্যে চুক্তি না করলে হামলা করা হবে, ইরানকে দেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকির পর এভাবেই যুদ্ধের প্রস্তুতি কয়েকগুণ বাড়াচ্ছেন মার্কিন সেনারা।

ইরানে সীমিত আকারে হামলার কথা বললেও; ন্যায্য চুক্তিতে যাওয়াই ইরানের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে ফের হুঁশিয়ার করলেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা একটি ন্যায্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করাই ভালো হবে। আপনি জানেন ইরানের জনগণ ইরানের নেতাদের চেয়ে অনেক আলাদা। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক পরিস্থিতি। আমি খুব বেশি সময় ব্যয় করতে চাই না।

এদিকে ট্রাম্পের দেয়া হামলার আল্টিমেটামের মধ্যে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরানও। জাতিসংঘে এ বিষয়ে চিঠিও পাঠিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির খসড়া প্রস্তাব তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আমরা কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। কিন্তু তাদের জানা উচিত যে হুমকি দেয়া, ভয় দেখানো এবং চাপের সঙ্গে কূটনীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কূটনীতির নিজস্ব মতাদর্শ আছে। সে অনুযায়ী আমরা দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করবো। চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বহরে মোট ১৩টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান করছে। জেরাল্ড আর ফোর্ডের বহরে যোগ দিলে তা পৌঁছাবে ১৭টিতে। উভয় রণতরীর বহরেই আছেন হাজার হাজার সেনা। আছে অত্যাধুনিক অনেক যুদ্ধ বিমান।

ইএ