Recent event

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি

শহিদ মিনার, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
শহিদ মিনার, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় | ছবি: এখন টিভি
0

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী অর্ধনমিত থাকবে। পতাকার সঠিক মাপ ও উত্তোলনের নিয়ম সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, সব বেসরকারি টেলিভিশন/বেতার ও সব প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে।

জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্ব-স্ব কর্মসূচি প্রণয়নপূর্বক পালন ও সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করবে।

ওই দিন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

আরও পড়ুন:

পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ঢাকায় বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধি, একুশে উদযাপন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা সবাই শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নির্ধারিত ধারাক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত ৩০ (ত্রিশ) মিনিট নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনার চত্বর ও আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনসমাবেশ বা ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রোধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:

এছাড়া সব সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, বাংলাদেশ বেতার এবং কমিউনিটি রেডিওসমূহ কর্তৃক একুশের অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়ক দ্বীপগুলো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো বাংলাসহ দেশের অন্যান্য সব জাতিগোষ্ঠীর বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হবে।

এছাড়া, ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাতের জন্য দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি রেডিও ও টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

আরও পড়ুন:

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগরীতে ট্রাকের মাধ্যমে রাজপথে ভ্রাম্যমাণ সংগীতানুষ্ঠান এবং নৌযানের সাহায্যে ঢাকা শহর সংলগ্ন নৌপথে সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনসহ জেলা-উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করবে।

অন্যদিকে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে শহিদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এ উপলক্ষে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ছড়া ও কবিতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলা একাডেমি একুশে বইমেলার আয়োজন করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা এ বইমেলায় অংশগ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মেলা উপলক্ষে বিশেষ শিশু সংখ্যা প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও অধীনস্থ শাখা জাদুঘরগুলো, শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সব প্রত্নস্থান ও জাদুঘরগুলো শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ঐদিন বিনা টিকেটে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও স্বাধীনতা জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভাষা আন্দোলনের ওপর বিভিন্ন প্রামাণ্য নিদর্শন প্রদর্শন, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি অঙ্কন ও প্রদর্শন, শিশু-কিশোরদের সুন্দর বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতা এবং সেমিনারের আয়োজন করবে।

গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি গণগ্রন্থাগারসমূহে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ভাষা আন্দোলন বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

এসএস