একদিকে, আলোচনার টেবিলে দ্বন্দ্ব সমাধানের প্রয়াস, অন্যদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের শঙ্কায় প্রতিনিয়ত নিজেদের সামরিক শক্তির প্রকাশ ও পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই-সময়ের সঙ্গে ক্রমেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান উত্তেজনা।
স্থানীয় সময় গতকাল (মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, জোর করে ইসলামি শাসনতন্ত্রের পতন ঘটাতে পারবে না ওয়াশিংটন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘ট্রাম্প বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের সর্বাধুনিক সামরিক বহর আছে। কিন্তু অনেক সময় শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও এমন ভুল করে যার খেসারত দীর্ঘসময় ধরে দিতে হয়।’
আরও পড়ুন:
তবে খামেনির হুঁশিয়ারির পরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলন। গেল ডিসেম্বরের পর ফের নতুন করে দানা বাধছে খামেনি বিরোধী আন্দোলন। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের ইলাম প্রদেশের একটি কবরস্থানে খামেনিতন্ত্রের পতন দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এছাড়া, তেহরানসহ ইরানের অন্যান্য শহরেও ইসলামি শাসনতন্ত্রের পতন ও নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির প্রত্যাবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে, ইরান উপকূল অভিমুখে দ্বিতীয় মার্কিন রণতরী পাঠানোর পর নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে হোয়াইট হাউজ। এবার মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওসের খবর, গত একদিনে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়ার জন্য বেশ কিছুক্ষণ আংশিকভাবে বন্ধ ছিলো রুটটি।
তবে বাড়তে থাকা শঙ্কা ও উদ্বেগের বিপরীতে আছে স্বস্তির খবর। গতকাল জেনেভায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র- ইরান ২য় দফার পরমাণু আলোচনা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। জানান, কারিগরি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও পরমাণু চুক্তির মূল নীতিতে একমত ওয়াশিংটন ও তেহরান।
আরও পড়ুন:
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘এবারের বৈঠকে আগের দফার চেয়েও অনেক জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সব পক্ষের কথা শুনে আমরা মূল নীতিমালাগুলোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সম্মতিতে পৌঁছেছি। এর ভিত্তিতেই সামনের দিনে চুক্তির কাঠামো তৈরি হবে।’
এসময় আরাঘচি দাবি করেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করছে না।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সীমারেখা না মানার অভিযোগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কূটনৈতিক আলোচনা কিংবা ভিন্ন কোনো পন্থায় ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে রাজি করাবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো ইরানের চলমান পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা। এটি কার্যকরে প্রেসিডেন্টের কাছে অনেক বিকল্প আছে। তার বিশাল সেনা বহর আছে। এছাড়া, কূটনৈতিক দলও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট সব চ্যানেলেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এছাড়া, ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগের পাশাপাশি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।





