Recent event

শহিদের আত্মাহুতি বৃথা যাবে না, জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে কথা বলবে: আলী রীয়াজ

মতবিনিময় সভায় ড. আলী রীয়াজ
মতবিনিময় সভায় ড. আলী রীয়াজ | ছবি: এখন টিভি
0

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি অগণিত শহিদের আত্মাহুতি বৃথা যাবে না, এ দেশের জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে কথা বলবে এবং সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

আজ (মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

মতবিনিময় সভায় আলী রীয়াজ বলেন, ‘যে তরুণ পথে নেমে এসেছে, যে যুবক কাজ ফেলে রাজপথে নেমেছে, যে বাবা ছেলেকে মিছিলে পাঠিয়ে প্রার্থনায় বসেছে, যে শ্রমিক প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে তাদের সবার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। আর সে ঋণই “জুলাই সনদ”। এর প্রতিটি অক্ষর কালো কালিতে লেখা হলেও এর পটভূমি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষরই জুলাই সনদ।’

তিনি বলেন, ‘আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, জনগণের অধিকার পদদলিত করতে না পারে, কাউকে গুম করতে না পারে, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে— সেজন্য জুলাই সনদের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করে আসন্ন গণভোটে “হ্যাঁ”-কে জয়যুক্ত করতে হবে।’

দীর্ঘ ১৬ বছর যারা ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের নিগড় থেকে মুক্ত স্বদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জীবন বিনিময় করেছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, গ্রেপ্তার-নির্যাতন ভোগ করেছেন— তারা আমাদের কয়েকটি দায়িত্ব সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ।’

দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী অন্তত ৪০ বছর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি কোন পথে যাবে, আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা।’

আরও পড়ুন:

আলী রীয়াজ বলেন, ‘অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করার জন্য জাতীয় সংসদের একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫টি বৈঠক, ১০৪ জন ব্যক্তির মতামত নিয়ে বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী হয়েছে। সংবিধান সংশোধনী আর যাতে ছেলেখেলায় পরিণত না হয়, সেটা বন্ধ করা সময়ের দাবি।’

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর নির্বাচনকে ‘তামাশার নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নামে সে সময়ের রাষ্ট্রপতি “সার্চ কমিটি” নামে একটি “নাটক” মঞ্চস্থ হয়েছিল। বলা হয়েছিল সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন। কিন্তু জানা গেছে, সার্চ কমিটির সুপারিশে কাজী রকিব উদ্দিন নামক কোনো ব্যক্তির নাম ছিল না।’ প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই। সেটি হলো আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?’

তিনি বলেন, ‘গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে, সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরি করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এ দীর্ঘ সময়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে অ্যাবিউজ করেছে নিজেদের হীন স্বার্থে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের। এখন গণভোটের মাধ্যমে এ সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও মতবিনিময় সভায় ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ