কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ফেনীতে বাণিজ্যিকভাবে ২০১৩-১৪ মৌসুমে কুল চাষ হয় ১৫ হেক্টর জমিতে। তখন উৎপাদন হয় ৪৫ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে ৫৮ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। এবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮৪ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য কোটি টাকার ওপরে।
এরইমধ্যে জেলার শহরতলীর আমিন বাজার এলাকায় তিন যুবক মিলে জান্নাত অ্যাগ্রো নামে একটি কৃষি প্রকল্পে সাথি ফসল হিসেবে পাঁচ একর জমিতে তিন শতাধিক গাছের কুলের বাগান করেছেন। যা থেকে চলতি মৌসুমে ১২ টন কুল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
শুধু বাগান নয়, জেলার সদর উপজেলার কালিদাস পাহালিয়া নদী তীরের ‘কে-পাহালিয়া’ এগ্রোতেও ১০ একর জায়গায় ১৬০টি গাছে ধরেছে বল সুন্দরী, থাই, আপেল, বাউ, নারকেলসহ বিভিন্ন জাতের কুল।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দেড় মেট্রিক টন।ন উদ্যোক্তাদের একজন বলেন, ‘কুল আবাদে খরচ তেমন বেশি না, একটু যত্নশীল হলে অনায়াসে চাষাবাদে লাভবান হওয়া যায়।’
আরও পড়ুন:
এদিকে, বাগানে উৎপাদিত তাজা এসব কুল কিনতে ছুটে যাচ্ছেন ক্রেতারা। গাছ থেকে ছিড়ে কিনছেন। ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানান, বাজার থেকে কিনলে এতো ফ্রেস ফল পাওয়া যায় না, তাই এখান থেকেই কিনে থাকেন তারা। আর ফর্মালিন মুক্ত ফল পাওয়ার কারণে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলার মাটি ও সামগ্রিক পরিবেশ কুল আবাদের জন্য ইতিবাচক। ফলন-দাম দুটোই ভালো। পুষ্টিগুণেও সেরা।
ফেনীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. মাসুদ হোসেন বলেন, ‘কুলচাষ যেন বৃদ্ধি পায় সে ব্যাপারে আমরা উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছি। এরইমধ্যে আমাদের সদর উপজেলায় একজন উদ্যোক্তা আছে। উনি প্রায় পাঁচ একর জমিতে কুল চাষ করছে এবং তার জমি থেকেই স্থানীয়রা কুল কিনে নিয়ে যায়।’
সরকারিভাবে কুল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তি, জাত নির্বাচন ও উন্নয়ন সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এ জনপদের জন্য কুল চাষ কৃষিতে ব্যাপক সম্ভাবনার বলছেন সংশ্লিষ্টরা।





